ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ পৌষ ১৪৩২

ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার: ২০২৬ সাল নিয়ে বড় পূর্বাভাস

২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ১৫:৩৯:৩৩

ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার: ২০২৬ সাল নিয়ে বড় পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা কয়েক বছরের মন্দা ও অস্থিরতা কাটিয়ে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বখ্যাত ফান্ড ম্যানেজার এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটাল (এএফসি)। হংকং-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের মতে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বাজারের জন্য গেম-চেইঞ্জার হিসেবে কাজ করবে।

এএফসি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে এশীয় ফ্রন্টিয়ার মার্কেটগুলো দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা সংস্কারের কারণে বাংলাদেশের বাজার নেতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে। তবে ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি কমে আসার পাশাপাশি সুদের হার হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলে দিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আঞ্চলিক তুলনায় আকর্ষণীয় বাজার: বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের তুলনায় অনেক সস্তা বা আকর্ষণীয় মূল্যে রয়েছে। ইবিএল সিকিউরিটিজের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বাজারের প্রাইস-টু-এর্নিংস (পিই) রেশিও মাত্র ৮.৭। এর বিপরীতে ভারতের পিই রেশিও ২৪.৫, ভিয়েতনামের ১৬.৫ এবং শ্রীলঙ্কার ১০.৭। অর্থাৎ, ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ার বর্তমানে ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, যা বিদেশি ও বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রবেশের সেরা সময়।

২০২৫ সালের খতিয়ান

২০২৫ সালটি বাংলাদেশের বাজারের জন্য ছিল বেশ কঠিন। বছরের প্রথমার্ধে সূচক ৭.৩ শতাংশ কমলেও দ্বিতীয়ার্ধে ২.৬ শতাংশের একটি ছোট ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বাজার ৮ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে। অথচ একই সময়ে পাকিস্তান ৪৭ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কা ৩৩ শতাংশ রিটার্ন দিয়ে এশিয়ায় সেরা পারফর্মার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটাল (এএফসি)-এর সাম্প্রতিক এই পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের জন্য একটি শক্তিশালী আশার আলো হিসেবে দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা এবং মন্দা কাটিয়ে ২০২৬ সাল হবে এই বাজারের জন্য প্রকৃত ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বা ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। এএফসি-র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ২০২৬ সালের শুরুতেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো ইতিবাচক হতে শুরু করায় বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের আস্থা সংকট দূর হবে।

বিনিয়োগকারীরা যখন ভালো রিটার্নের আশায় উন্মুখ, তখন এএফসি-র এই পূর্বাভাস নির্দেশ করছে যে বাংলাদেশের বাজার এখন তার সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে, যেখান থেকে সামনে কেবল উপরে ওঠার পথই খোলা। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি কমে আসার ফলে সুদের হার যখন হ্রাস পাবে, তখন ব্যাংক থেকে অর্থ সরিয়ে বড় বিনিয়োগকারীরা পুনরায় শেয়ারবাজারের দিকে ধাবিত হবেন। এছাড়া আমাদের ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ার বর্তমানে যেভাবে অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে, তা ২০২৬ সালে দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এক অভাবনীয় লাভের সুযোগ তৈরি করবে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে একটি দীর্ঘস্থায়ী বুলিশ ট্রেন্ডের সূচনালগ্ন, যা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় পুনরায় সামনের সারিতে নিয়ে আসবে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত