ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ব্যাংকিং খাতে আমানতকারীদের নিরাপত্তায় নতুন অধ্যাদেশ জারি

২০২৫ নভেম্বর ২৩ ১৯:৫৩:২৭

ব্যাংকিং খাতে আমানতকারীদের নিরাপত্তায় নতুন অধ্যাদেশ জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে এই আইন জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশে পুরনো ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ বাতিল করে যুগোপযোগী কাঠামোর নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে। দেশি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই নতুন আইন প্রণয়নের প্রধান উদ্দেশ্য।

রবিবার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী ব্যাংক, কোম্পানি ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে রাখা আমানতকারীদের সুরক্ষিত আমানত ফেরত দেওয়া নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় পৃথক আমানত সুরক্ষা বিভাগ গঠন করা হবে। এই বিভাগ প্রিমিয়াম সংগ্রহ, তহবিল ব্যবস্থাপনা, সদস্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, আমানত পরিশোধ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। নতুন আইন অনুযায়ী ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য দুটি স্বতন্ত্র আমানত সুরক্ষা তহবিল গঠনের নির্দেশনা রয়েছে। তহবিল পরিচালনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, যা ট্রাস্টি বোর্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিকে নির্ধারিত হারে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দিতে হবে। বিদ্যমান ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে, আর ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত হবে। ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ঝুঁকি-ভিত্তিক প্রিমিয়াম আদায়ের বিধানও রাখা হয়েছে।

কিছু নির্দিষ্ট আমানত যেমন সরকারি, বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার আমানত নতুন আইনের আওতায় থাকবে না। অন্যদিকে সাধারণ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আমানত সুরক্ষিত হিসেবে গণ্য হবে এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে ফেরত নিশ্চিত করা হবে।

ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির অবসায়ন বা রেজল্যুশনের ক্ষেত্রে, আমানত সুরক্ষা বিভাগ সরাসরি সুরক্ষিত আমানত পরিশোধ করবে। প্রয়োজনে রেজল্যুশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্রিজ ব্যাংক বা তৃতীয় পক্ষের কাছে সম্পদ হস্তান্তর ও আমানত সুরক্ষা প্রক্রিয়া পরিচালিত হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংককে আইনের অধীনে দেশি ও বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই, তথ্য বিনিময়, কারিগরি সহযোগিতা গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে।

নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় দেশের ব্যাংকিং খাত আরও স্থিতিশীল হবে, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হবে, এবং সাধারণ আমানতকারীরা আরও নিরাপত্তা নিশ্চিতভাবে সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত