ঢাকা, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

বেক্সিমকো গ্রুপের বন্ধকী সম্পদ নিলামে তুলেছে এক্সিম ব্যাংক

২০২৫ নভেম্বর ০৯ ০০:২৯:৪৩

বেক্সিমকো গ্রুপের বন্ধকী সম্পদ নিলামে তুলেছে এক্সিম ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী সংস্থাগুলোর বন্ধকী সম্পদ নিলামের ঘোষণা দিয়েছে এক্সিম ব্যাংক। গ্রুপটির খেলাপি হওয়া ৪০৯ কোটি টাকা ঋণ আদায়ের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ৬ নভেম্বর জাতীয় দৈনিকগুলোতে এই নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

নিলাম বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এক্সিম ব্যাংক গাজীপুরে বন্ধকী থাকা মোট ৫১৬.৫০ দশমিক জমি বিক্রি করবে। দরদাতাদের ২৬ নভেম্বরের মধ্যে তাদের প্রস্তাব জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকটি জানিয়েছে, গত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১-এর কাছে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০৯ কোটি টাকা, যা এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্পোরেট শাখা থেকে নেওয়া হয়েছিল।

এই পদক্ষেপটি মানি লোন কোর্ট অ্যাক্ট ২০০৩-এর অধীনে নেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকগুলোকে আদালতে মামলা দায়ের করার আগেই বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রি করার অধিকার দিয়েছে। গত ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর এক্সিম ব্যাংক এই প্রথম বেক্সিমকোর সম্পদের বিরুদ্ধে এই অধিকার প্রয়োগ করছে।

ঋণটির জামিনদার এবং বন্ধকদাতা হিসেবে বেক্সিমকোর বেশ কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে—এসএস কোম্পানি লিমিটেড, ওকে কোম্পানি লিমিটেড, অ্যাস্ট্রা কোম্পানি লিমিটেড এবং গ্রুপের প্রধান তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো লিমিটেড)। এই প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি, টেক্সটাইল, ওষুধ এবং নির্মাণ সামগ্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বেক্সিমকো গ্রুপের মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ব্যাংকটিকে অন্য চারটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এই নিলামের উদ্যোগ তার পরিপন্থী নয়। একজন ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, "এই পদক্ষেপ কঠোরভাবে আইনি বিধানের অধীনে একটি ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের প্রতি আমাদের আইনি দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ"।

গোষ্ঠীটির ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান বর্তমানে একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে রয়েছেন। একসময় দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত সালমান এফ রহমান এখন আর্থিক ও আইনি চাপের মুখে পড়েছেন।

এর আগে আগস্ট মাসে, মানি লোন আদালত বেক্সিমকো লিমিটেডের ছয় পরিচালককে ৬০ দিনের মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)-কে ৩৬০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। সরকারী তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র জনতা ব্যাংকের কাছেই বেক্সিমকো গ্রুপের মোট বকেয়া ২৩ হাজার কোটি টাকা এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে এর বকেয়া প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বলে অনুমান করা হয়।

কোম্পানিটির আর্থিক সঙ্কট বৃদ্ধি পাওয়ায় সাবেক সরকার এমনকি কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য বেক্সিমকোকে সুদবিহীন ৫৮৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল। এর আগে মে মাসে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আদালতের নির্দেশে সালমান এফ রহমান এবং তার সহযোগীদের মালিকানাধীন ৯৪টি বেক্সিমকো গ্রুপ কোম্পানির শেয়ার ফ্রিজ করে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত