ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ঘোষণা দিয়েও শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেয়নি ১৭ কোম্পানি

২০২৫ অক্টোবর ২০ ২২:১৪:০৬

ঘোষণা দিয়েও শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেয়নি ১৭ কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বাধ্যবাধকতা হলো—পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক প্রস্তাবিত ডিভিডেন্ড বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে তা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করতে হয়। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে শেয়ারবাজারে ১৭টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি। নির্ধারিত সময়ের আট মাস পেরিয়ে গেলেও এই কোম্পানিগুলো ঘোষিত ডিভিডেন্ড শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরণ করেনি।

এই গুরুতর ব্যর্থতা সত্ত্বেও শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কার্যত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। গত এপ্রিলে ডিভিডেন্ড বিতরণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএসইসি-এর বৈঠক হয়েছিল, কিন্তু পাঁচ মাস পার হওয়ার পরও কোম্পানিগুলো ঘোষিত ডিভিডেন্ড বিতরণ সম্পন্ন করেনি।

ডিভিডেন্ড বিতরণে ব্যর্থতার কারণে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত ১২টি কোম্পানির 'জেড' ক্যাটাগরিতে অবনমন ঘটেছে। এই অবনমনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। 'জেড' ক্যাটাগরি ব্যতীত অন্যান্য ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেনের পর টি+২ অর্থাৎ তৃতীয় দিনে বিক্রয়যোগ্য হয়। কিন্তু 'জেড' ক্যাটাগরির শেয়ারের ক্ষেত্রে সেটেলমেন্টের জন্য একদিন বেশি সময় লাগে, অর্থাৎ তা চতুর্থ দিনে বিক্রয়যোগ্য হয়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন যে, এটি এক প্রকার 'শাস্তি', যা কোম্পানি নয়, বরং বিনিয়োগকারীদেরই বহন করতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসইসি-এর কর্মকর্তারা বলছেন, ডিভিডেন্ড বিতরণে ব্যর্থতার জন্য মূলত কোম্পানির পরিচালকরাই দায়ী, কারণ নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব পর্যালোচনার পরেই তারা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিলেন এবং এটি সাধারণ সভায় অনুমোদিত হয়েছিল। ফলে পরিচালকদেরই শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

ডিএসই প্রধান বোর্ডে তালিকাভুক্ত ১২টি কোম্পানির মধ্যে ১০টি কোম্পানি এক টাকাও ডিভিডেন্ড বিতরণ করেনি। এর মধ্যে লুব-রেফ (বাংলাদেশ), আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং, সাইফ পাওয়ার টেক, আমরা টেকনোলজিস ও ফরচুন সুজ প্রতিটিমাত্র ১ শতাংশ হারে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে, ওরিয়ন ফার্মা ও আমরা নেটওয়ার্কস ১০ শতাংশ এবং এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ১.৭৫ শতাংশ, এসএস স্টিলস ২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেও তা কার্যকর করেনি। আংশিক ডিভিডেন্ড বিতরণ করা দুটি কোম্পানি হলো আফতাব অটো মোবাইলস (ঘোষিত ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের মাত্র ১২.০৬ শতাংশ বিতরণ) এবং এডভেন্ট ফার্মা (ঘোষিত ১ শতাংশ ডিভিডেন্ডের ৪০.২১ শতাংশ বিতরণ)।

এছাড়া, এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্ত বিডি পেইন্টস (১২ শতাংশ), ওরাইজা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ (৫ শতাংশ) এবং মোস্তফা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ (৪ শতাংশ) ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেও বিনিয়োগকারীদের কোনো অর্থ দেয়নি। আংশিক বিতরণ করেছে হিমাদ্রি লিমিটেড (৭৭.৩৭ শতাংশ), বেঙ্গল বিস্কুটস (৬২.১৩ শতাংশ) ও মাস্টারফিড এগ্রোটেক (১৪.৫৯ শতাংশ)। এই কোম্পানিগুলোর অর্থবছর ২০২৪ সালের জুনে শেষ হয়েছিল এবং ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

নির্ধারিত সময়ে ডিভিডেন্ড বিতরণে ব্যর্থতার জন্য সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিএসইসি বললেও এখন পর্যন্ত কার্যত কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, যেসব কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেও তা বিতরণ করেনি সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, এনফোর্সমেন্টের অংশ হিসাবে কোম্পানির পরিচালকদের শুনানিতে ডাকা হবে এবং এরপর এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে।

তবে ইতিবাচক দিক হলো, তালিকাভুক্ত চারটি কোম্পানি—আরএকে সিরামিকস, সি পার্ল, নাভানা সিএনজি ও জেনেক্স ইনফোসিস—নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার কয়েক মাস পর হলেও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ডিভিডেন্ড বিতরণ সম্পন্ন করেছে। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, এনবিআরের আন্দোলনের কারণে তাদের হোল্ডিং কোম্পানির ডিভিডেন্ড বিলম্বে বিতরণ করা হয়েছে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত