ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সেনাবাহিনীর ৯ শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলো চীন

২০২৫ অক্টোবর ১৮ ০১:৩০:০৭

সেনাবাহিনীর ৯ শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলো চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীন তার সেনাবাহিনীতে এক বিরল দমন অভিযানে শীর্ষ পর্যায়ের ৯ জেনারেলকে বহিষ্কার করেছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবর অনুযায়ী, চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, এই কর্মকর্তারা গুরুতর অর্থনৈতিক অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং তাদের সবাইকে সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন চীনের সর্বোচ্চ সামরিক সংস্থা সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (সিএমসি)-এর উপ-চেয়ারম্যান হে ওয়েইদং, সিএমসির রাজনৈতিক কাজ বিভাগের পরিচালক মিয়াও হুয়া এবং রকেট ফোর্সেসের প্রধান ওয়াং হৌবিনসহ আরও কয়েকজন তিন-তারকা জেনারেল। এদের অনেকেই পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

অন্যান্য বহিষ্কৃত কর্মকর্তারা হলেন হে হংজুন, ওয়াং শিউবিন, লিন শিয়াংইয়াং, চিন শুতং, ইউয়ান হুয়াঝি ও ওয়াং চুননিং। হে ওয়েইদং ছিলেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা এবং পলিটব্যুরোর সদস্য। মার্চের পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল, যা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো।

চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এই কর্মকর্তারা পার্টির শৃঙ্খলা গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই অভিযানকে 'পার্টি ও সেনাবাহিনীর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে একটি বড় সাফল্য' বলে উল্লেখ করা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নয়, বরং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অপসারণের একটি শুদ্ধি অভিযানও হতে পারে।

সিএমসি গত জুলাইয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করে সেনাবাহিনীতে 'বিষাক্ত প্রভাব' দূর করার আহ্বান জানিয়েছিল এবং কর্মকর্তাদের জন্য 'কঠোর নিয়ম' নির্ধারণ করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ছোট পরিসরে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে ও লি শ্যাংফুসহ আরও কয়েকজন জেনারেলকে সরানো হয়েছিল এবং রকেট ফোর্সেসেও একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হয়েছিল।

এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের চীনবিষয়ক গবেষক নিল থমাস মনে করেন যে, শি জিনপিংয়ের দৃষ্টিতে দুর্নীতিগ্রস্ত বা অবিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের অপসারণই হলো পার্টির স্ব-সংস্কার, যা দলটিকে চিরস্থায়ী শাসনের উপযুক্ত করে তুলছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান প্রশাসনের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে স্তব্ধ করে দেয় এবং ব্যবস্থা হয়তো আরও স্পষ্ট ও অনুগত হলেও একইসঙ্গে আরও সতর্ক ও ভঙ্গুরও হয়ে পড়ে।

২০ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া পার্টির চতুর্থ প্লেনাম অধিবেশন ঘিরে এখন কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওই বৈঠকে উপস্থিতির হারই ইঙ্গিত দেবে চীনের সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই শুদ্ধি অভিযান কত গভীরে পৌঁছেছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত