ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২
শেয়ারবাজারে ‘একলা চলা নীতি’! দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা
আবু তাহের নয়ন: গত সপ্তাহে ঢাকার শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা এক চরম বৈপরীত্যের শিকার হয়েছেন, যেখানে বাজারের প্রধান ২০টি খাতের (বন্ড ব্যতীত) মধ্যে প্রায় সবাই লোকসানের শিকার। এই পরিস্থিতিতে, একমাত্র জেনারেল ইন্স্যুরেন্স খাতই সামান্য ০.৩৬ শতাংশ মুনাফা দিয়ে বিনিয়োগকারীদের মুখে সবুজ হাসি ফুটিয়েছে। বাজারের বাকি ১৯টি খাতের বিনিয়োগকারীরাই পুঁজি হারিয়েছেন, যা শেয়ারবাজার-এর সার্বিক দুর্বলতা এবং আস্থার অভাবকেই তীব্রভাবে স্পষ্ট করে তোলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও মূল সূচকে বড় পতন দেখা যায়নি, তবুও এই 'একলা চলা নীতি' প্রমাণ করে যে অস্থিরতা ও তারল্য সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন কেবল স্বল্পমেয়াদী লাভের আশায় সীমিত কিছু খাতে ঝুঁকছেন।
আলোচ্য সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি স্পর্শকাতর খাত। সাপ্তাহিক রিটার্নে সর্বোচ্চ পতন দেখেছে পাট খাত, যেখানে লোকসানের পরিমাণ ১২.৪০ শতাংশ। এরপর রয়েছে পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং খাত, যা ১০.৪৬ শতাংশ লোকসান দিয়েছে। এই দুই খাতের দুই-অঙ্কের লোকসান সামগ্রিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়াও, সিরামিক খাতে ৮.৭১ শতাংশ এবং আইটি খাতে ৮.৩৭ শতাংশ লোকসান হওয়ায়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে।
সপ্তাহজুড়ে মাঝারি পতনের তালিকায় রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যে খাতে লোকসান হয়েছে ৫ শতাংশ। এছাড়াও, টেক্সটাইল খাতে লোকসান ৪.৬৬ শতাংশ, প্রকৌশল খাতে লোকসান ৪.২৯ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে লোকসান ৩.৭২ শতাংশ। এসব বৃহৎ খাত উল্লেখযোগ্য লোকসান হয়েছে। এই খাতগুলো সাধারণত বাজারের তারল্যে বড় ভূমিকা রাখে, তাই এসবের নেতিবাচক রিটার্ন তারল্য সংকট এবং লেনদেনের দুর্বলতা নির্দেশ করে।
সপ্তাহটিতে অপেক্ষাকৃত কম লোকসানের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে কম লোকসান দিয়েছে- এই তালিকায় রয়েছে টেলিকম খাত ১.৭৫ শতাংশ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২.১২ শতাংশ এবং ব্যাংক খাত ২.৫৯ শতাংশ। এখাতগুলোতে পতনের হার কম থাকা সত্ত্বেও, মুনাফা ধরে রাখতে না পারা প্রমাণ করে যে দুর্বল বাজারের চাপ থেকে কেউই পুরোপুরি মুক্ত নয়।
একমাত্র উজ্জ্বল ব্যতিক্রম – এই বিশাল পতনের মধ্যেও একমাত্র ব্যতিক্রমী চিত্র দেখিয়েছে জেনারেল ইন্স্যুরেন্স খাত। শুধুমাত্র এই খাতটিই সামান্য ০.৩৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন দিয়ে সপ্তাহ শেষ করেছে। এটি মূলত জল্পনা-নির্ভর বা টেকনিক্যাল কারণে হলেও, সামগ্রিক মন্দা বাজারে খাতটির এই ব্যতিক্রমী অবস্থান বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের এবং ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার শেয়ারের খোঁজে ইন্স্যুরেন্স খাতে সাময়িকভাবে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে এক ধরনের 'একলা চলো নীতি' দেখা গেছে, যেখানে জেনারেল ইন্স্যুরেন্স একাই মুনাফা ধরে রেখেছে। পাট, পেপার, সিরামিক, প্রকৌশল এবং আইটি খাতের বিশাল পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে। এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে, স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সঙ্গে এবং কেবল মৌলিক দিক থেকে শক্তিশালী কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করা উচিত।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইনটেক
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বার্জার পেইন্টস