ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকের ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রি

মোবারক হোসেন
মোবারক হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ অক্টোবর ১৫ ১২:১০:৫৪

কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকের ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রি

মোবারক হোসেন: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক সৈয়দ মুনসিফ আলী গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে তার হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে আসছেন। সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে তিনি তার পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আরও ১৭,৩৬,৫০৩টি শেয়ার বর্তমান বাজার দরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিক্রি সম্পন্ন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি তার ধারণ করা অধিকাংশ শেয়ারই বিক্রি করে দিলেন। এই ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রি বাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রিকে বাজারে সাধারণত নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। এর কারণগুলো হলো:

আস্থার সংকট: একজন উদ্যোক্তা যখন নিজের কোম্পানির শেয়ার বিপুল পরিমাণে বিক্রি করে দেন, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন জাগে যে কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে উদ্যোক্তার আস্থা কমে গেল কি না। এই ধরনের পদক্ষেপ বাজারে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

বিক্রির চাপ: এত বিপুল পরিমাণ শেয়ার বাজারে সরবরাহের ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে বিক্রির চাপ (Selling Pressure) সৃষ্টি হতে পারে, যা শেয়ারের দরপতনকে ত্বরান্বিত করে।

মালিকানা হ্রাস: ধারাবাহিক বিক্রির ফলে কোম্পানিটিতে উদ্যোক্তা শ্রেণীর মালিকানার অংশ হ্রাস পাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুসারে, তিনি আগস্ট থেকে অক্টোবর, ২০২৫-এর মধ্যে একাধিক ধাপে মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৫টি শেয়ারের মধ্যে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৩টি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন এবং তার সবগুলোর বিক্রি সম্পন্ন করেছেন।

ইতিবাচক দিক ও বাজারের স্থিতিশীলতা

অন্যদিকে, এই ধারাবাহিক বিক্রির কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে, যা বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হতে পারে:

স্বচ্ছ প্রক্রিয়া: উদ্যোক্তা তার শেয়ার বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি ডিএসইতে ঘোষণা (Declaration) দেওয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এর ফলে কোনো গোপন লেনদেন বা অস্বাভাবিকতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বৃদ্ধি: বাজারের গতিশীলতার জন্য শেয়ারের পর্যাপ্ত সরবরাহ (Liquidity) জরুরি। এই বিপুল পরিমাণ শেয়ার পাবলিক মার্কেটে আসায় কোম্পানির লেনদেনের পরিমাণ ও তারল্য (Liquidity) বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কেনা-বেচার সুযোগ সৃষ্টি করে।

উদ্যোক্তার শেয়ার বিক্রির বিষয়টি বাজারে বারবার সংবাদ আকারে আসায় বিনিয়োগকারীরা এখন এটিকে একটি নিয়মিত ঘটনা হিসেবে দেখছে। ফলে প্রতিটি বিক্রির ঘোষণায় বাজারের উপর এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব কমে আসতে পারে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত