ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২

টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের শুভ সূচনা

২০২৫ আগস্ট ৩০ ২১:৩৫:৪৮

শক্তিমত্তার বিচারে নেদারল্যান্ডসের চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সেই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল। ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই দাপট দেখিয়ে টাইগাররা ৮ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে। এই জয়ের ফলে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৬ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন তেজা নিদামিনুরু। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ২৮ রানে ৪ উইকেট শিকার করে সেরা বোলার নির্বাচিত হন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ১৩ ওভার ৩ বলে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। দলের হয়ে অধিনায়ক লিটন দাস দুর্দান্ত এক ফিফটি করেন।

১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ইনিংসের প্রথম তিন বলেই তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। তবে তিনি বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই আরিয়ান দত্তের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৯ বলে ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন।

ইমন দ্রুত ফিরলেও তিনে নামা লিটন দাস রানের চাকা সচল রাখেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন তানজিদ তামিম। তামিম শুরুতে সাবধানে ব্যাট করলেও উইকেটে থিতু হওয়ার পর একটি ফুলটস ডেলিভারিতে উইকেট বিলিয়ে দেন, যা কিছুটা দৃষ্টিকটু ছিল। তিনি ২৪ বলে ২৯ রান করে আউট হন। পারভেজ ও তানজিদের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ২৬ রান।

গত কয়েক মাস ধরে সাদা বলের ক্রিকেটে রান খরায় ভুগছিলেন লিটন দাস। এমন সময়ে তাকে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব দেওয়া হলে অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন। তবে আজ লিটন ব্যাট হাতে এর যোগ্য জবাব দিয়েছেন। তিনি মাত্র ২৬ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫৪ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। চারে নেমে সাইফ হাসান ১৯ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন, যার সুবাদে বাংলাদেশ ৩৯ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয়।

এর আগে, নেদারল্যান্ডসের ইনিংসের প্রথম ওভারেই স্পিন আক্রমণে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস, বল তুলে দেন শেখ মেহেদির হাতে। মেহেদি নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও, অপর প্রান্তে শরিফুল ইসলাম নিজের দ্বিতীয় ওভারে তিন বাউন্ডারি হজম করেন।

এক ওভার করার পরই শরিফুলকে সরিয়ে তাসকিন আহমেদকে আক্রমণে আনেন লিটন। তাসকিন চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসেই প্রথম বলে ব্রেকথ্রু এনে দেন। তার গুড লেংথের বলে ম্যাক্স ও'ডাউড (১৫ বলে ২৩ রান) শর্ট কভারে জাকের আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে তাসকিন আবারও প্রথম বলে উইকেট পান, এবার তার শিকার হন ভিক্রমজিত সিং।

প্রায় দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা সাইফ হাসানও নিজের প্রথম ওভারেই জ্বলে ওঠেন এবং দুই উইকেট শিকার করেন। ইনিংসের দশম ওভারে সাইফ তার প্রথম উইকেট পান যখন স্কট এডওয়ার্ডস (৭ বলে ১২ রান) তার বলে প্যাডল সুইপ করে লং লেগে জাকের আলীর হাতে ধরা পড়েন। এরপর একই ধরনের ডেলিভারিতে সাইফ তেজা নিদামিনুরুকেও (২৬ রান) তাওহিদ হৃদয়ের ক্যাচে পরিণত করেন।

৮৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারানো ডাচরা এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হওয়া সত্ত্বেও তারা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে দেড়শ রানও অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত