ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২
বাংলাদেশের সব শর্ত মেনে নিল আইসিসি
স্পোর্টস ডেস্ক: দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আর্থিক ঝুঁকিকে ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান ঘটিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নিরাপত্তা কারণ দেখিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া বাংলাদেশকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উত্থাপিত সব শর্তই মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, এ ঘটনায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না।
নির্ধারিত ভেন্যুর নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা থেকেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি জানায় বিসিবি। বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দিলেও আইসিসি তা গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টের বাইরে রাখা হয় এবং তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করে বাংলাদেশ, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে এই আচরণকে শুরু থেকেই ‘অন্যায্য’ বলে প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রতিবেশী দেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান ঘোষণা দেয়, তারা ভারতের বিপক্ষে নিজেদের নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না যা আইসিসির জন্য বড় আর্থিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায় আইসিসি এবং পরে বিসিবি ও পিসিবির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসে সংস্থাটি। আলোচনায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান কয়েকটি শর্ত তুলে ধরে এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া।
দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত এসব শর্তে সম্মতি দেয় আইসিসি। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, আইসিসি, বিসিবি ও পিসিবির মধ্যে উন্মুক্ত, গঠনমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। সেখানে শুধু ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও খেলাটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে কথা হয়েছে।
আইসিসির বিবৃতিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অনুপস্থিতিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি পূর্ণ সদস্য হিসেবে বিসিবির মর্যাদা পুনর্ব্যক্ত করে জানানো হয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের রয়েছে গর্ব করার মতো ইতিহাস এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটের বিকাশে দেশটির অবদান গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ২০ কোটির বেশি আবেগী সমর্থক নিয়ে বাংলাদেশ যে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় বাজার, সেটিও স্বীকার করেছে সংস্থাটি।
এছাড়া আইসিসি আশ্বাস দিয়েছে, এই বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যেন কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বিসিবি চাইলে ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটিতে যাওয়ার পথও খোলা রাখা হয়েছে।
সবশেষে বড় স্বস্তির বার্তা হিসেবে আইসিসি নিশ্চিত করেছে, ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের সময়সীমার মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আইসিসি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে যা ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- ঢাবির ১৯ শিক্ষার্থী পেলেন ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’
- টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন
- ৩৬০ মিটার, মোবাইল নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষমতার রাজনীতি: নিরাপত্তার নামে কতটা নিয়ন্ত্রণ গ্রহণযোগ্য?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বে লিজিং
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিম চালু
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- ডিইউপিএস-এর ২৩তম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা: সভাপতি আবীর, সম্পাদক হাসিব
- এক নজরে দেখে নিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিবর্তিত সময়সূচি
- সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনাল: ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল জানুন
- ৪ দিন ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ ঘোষণা
- বিমস্টেকও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর মধ্যে বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন
- ঢাবির 'বি' ইউনিটের পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, পরিবর্তন ৮ জনের