ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
যে কারণে ভারত সফর করবেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পণ না করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন না বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দ্য ট্রিবিউন জানায়, গত ১০ আগস্ট ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে এমন শর্ত দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যে ভার্চ্যুয়াল প্রেস ব্রিফিং করেন, সেটির কারণে ঢাকা এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ওই ব্রিফিংয়ে হাসিনা ছাড়াও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় কথা বলেন। হাসিনা ওইদিন বলেন, ‘যদি তাকে হত্যাও করা হয়’ তবুও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন।
দ্য ট্রিবিউন আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর দল বিএনপি হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ে এতটা ক্ষুব্ধ হয়েছেন যে তাঁদের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেরও ফিফটি-ফিফটি সম্ভাবনা থাকবে।
তবে হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের পর ভারত সরকার এ থেকে দূরত্ব তৈরি করে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই ব্রিফিং আয়োজনে তাঁদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। যদিও একটি কূটনৈতিক সূত্র দ্য ট্রিবিউনকে বলেছেন, ভারত সরকার এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে গেছে।
গত ১০ আগস্ট ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফরে প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামসুল আলমের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও বিষয়টি দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেছে দ্য ট্রিবিউন।
ওইদিনই দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। তখন দীনেশ ত্রিবেদীকে বার্তা দেওয়া হয়—হাসিনার প্রত্যার্পণের ওপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নির্ভর করবে।
এ সময় ভারতীয় দূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো করার সীমাহীন সুযোগ রয়েছে এবং ভারত এ ক্ষেত্রে তার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করবে। কিন্তু সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমান তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন।
দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের কাছে এ বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করেন।
এরপর ত্রিবেদী দিল্লিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা জানান।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ভারত তার পূর্বাঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক করার চেষ্টা করছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে বাংলাদেশ। এই সম্পর্কোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে কাজ করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের এমন অবস্থানে তারা বেশ অবাক হয়েছেন।
এখন দুই দেশই নিজেদের অবস্থান নরম করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে দ্য ট্রিবিউন বলেছে, দুই দেশই জানে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে তাদের একে অপরকে প্রয়োজন।
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম সফরে মালয়েশিয়া ও চীনে যান। বিষয়টি খুব কাছ থেকে নজরদারি করেছে ভারত।
হাসিনাকে নিয়ে কী করবে ভারত
একটি কূটনৈতিক সূত্র দ্য ট্রিবিউনকে বলেছেন, হাসিনাকে তারা ত্যাগ করতে পারবেন না। কারণ হাসিনা ভারতের বিশ্বস্ত পুরোনো বন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা। আর বিশেষভাবে হাসিনা তাঁর জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ কারণে ভারত তাঁকে ছেড়ে দেবে না।
তবে আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, হাসিনার প্রেস ব্রিফিং দুই দেশের মধ্যে উন্নত হতে চলা সম্পর্কে বেশ খারাপ প্রভাব ফেলেছে। সূত্রটি বলেছেন, “পূর্ব সীমান্তে ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা অত্যন্ত জরুরি, আর কেবল একটি বন্ধুত্বপূর্ণ বাংলাদেশই তা রক্ষা করতে পারবে।”
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- মাসে ২৫০০ টাকা বৃত্তি দেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, জানুন আবেদন পদ্ধতি
- নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের তারিখ চূড়ান্ত, জানালেন অর্থসচিব
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- নতুন করে এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ৬৪১ শিক্ষক-কর্মচারী
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়