ঢাকা, রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২

শুরু হয়েছে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ

২০২৫ আগস্ট ৩০ ২০:৪৫:১২

শুরু হয়েছে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ

দীর্ঘ তিন বছর পর আজ থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, যা এক নাটকীয় ও উন্মাদনাময় সূচনা দেখেছে মুন্সিগঞ্জে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের নিয়মিত ভেন্যু হলেও সাধারণত দর্শকশূন্য গ্যালারি দেখা যায়, কিন্তু আজ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী দিনে নিজ জেলার খেলা দেখতে তপ্ত রোদে স্টেডিয়ামের প্রায় অর্ধেক গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।

উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মুন্সিগঞ্জ ২-১ গোলে মাদারীপুরকে পরাজিত করেছে। নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলে ড্র ছিল। ম্যাচের একদম শেষ মিনিটে মাদারীপুরের একজন ডিফেন্ডার মুন্সিগঞ্জের ফরোয়ার্ডকে জার্সি ধরে টানলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এ সিদ্ধান্তে মাদারীপুর দল আপত্তি জানায়, যা নিয়ে মাঠে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফেডারেশনের তিন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন, ছাইদ হাসান কানন ও কামরুল হাসান হিল্টন টাচ লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে মাদারীপুর দলকে নিবৃত্ত করেন। প্রায় সাত মিনিট পর খেলা শুরু হলে মুন্সিগঞ্জ পেনাল্টি থেকে গোল করে জয় নিশ্চিত করে, যা গ্যালারিতে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উল্লাস তৈরি করে।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলের এক জাঁকজমকপূর্ণ আসর ছিল, যা সমগ্র দেশকে ফুটবল উন্মাদনায় মাতিয়ে তুলত। সময়ের পরিক্রমায় বাফুফে এই আসরটি নিয়মিত করতে পারেনি। তবে বাফুফের নতুন কমিটি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। আজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়ালও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

হামজা ও সামিতদের মতো খেলোয়াড়দের আগমনে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্মাদনা বেড়েছে, এবং ঋতুপর্ণা চাকমাদের মতো নারী ফুটবলারদের এশিয়ান পর্যায়ে খেলা নারী ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাফুফের এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগামী দিনের ঋতুপর্ণা-জামালদের তৈরি করা। বাফুফে সভাপতি জেলা লিগগুলোকে ফুটবলার সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, "আন্তঃজেলা ফুটবলের মাধ্যমে জেলা লিগগুলো শক্তিশালী হবে এবং ফলস্বরূপ আমাদের ঘরোয়া লিগও শক্তিশালী হবে। এই লিগগুলো থেকে যেন আন্তর্জাতিকভাবে কিছু খেলোয়াড় বাইরে খেলার সুযোগ পায়। এরকম খেলা থেকে জাতীয় দলকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা একটি শক্তিশালী পাইপলাইন পাব।"

বাফুফের আর্থিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে আগের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন প্রায়শই কথা বললেও, বর্তমান সভাপতি তাবিথ আউয়াল এটিকে বড় সমস্যা মনে করছেন না। তার মতে, অবকাঠামো সংকটই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। গত মৌসুমে আলোকস্বল্পতার কারণে ফেডারেশন কাপ ফাইনাল অসমাপ্ত ছিল এবং সাত দিন পর বাকি ১৫ মিনিট খেলা হয়, যা ফুটবল বিশ্বে বিরল ঘটনা। এটিকে বাধা হিসেবে উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, "আমাদের অবকাঠামোগত দিক দিয়ে ঘাটতি আছে। অনেক স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট নেই, তাই খেলাগুলো সূর্য ডোবার আগে শেষ করতে হচ্ছে। ফ্লাডলাইট থাকলে আমরা রাতেও ম্যাচ আয়োজন করতে পারতাম। বাফুফে, মন্ত্রণালয় ও ফিফার সহযোগিতায় আমরা এগিয়ে যেতে পারব আশা করি।"

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফুটবলের অবকাঠামো প্রসঙ্গে বলেন, "আমি আসার পর দেখেছি যে অবকাঠামো না থাকার কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচগুলো বসুন্ধরায় হচ্ছে। জাতীয় স্টেডিয়ামের কাজ আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করেছি। চট্টগ্রাম, নীলফামারী ও এর বাইরেও কোন কোন স্টেডিয়াম ডেডিকেটেডলি বাফুফেকে দেওয়া যায় সেই চেষ্টা করছি, যাতে করে ফুটবল কোনোভাবে অবকাঠামোগত কারণে আটকে না থাকে। সীমিত সম্পদে সর্বোচ্চ ব্যবহার করার চেষ্টা করছি।" জেলা চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে স্টেডিয়াম ও মাঠ সচল হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "নিয়মিত খেলা না হলে মাঠগুলো পরিত্যক্ত হয়। মেগা প্রজেক্ট নেওয়ার চেয়ে আমরা সারা দেশের যত স্টেডিয়াম সেখানে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।"

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কার এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তার কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, "ভঙ্গুর ক্রীড়াঙ্গন থেকে আমরা একটি কাঠামোতে আসতে পেরেছি। বিকেন্দ্রীকরণের যে কথা বলছি সেটাও বাস্তবায়নের পথে। বিসিবি মিনি অফিস হচ্ছে, ফুটবলও বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে। ৯০ দশকে ফুটবল নিয়ে যে উন্মাদনা ছিল, সেটা ফিরিয়ে আনা গেছে। বাফুফে সেটা নিয়ে কাজ করেছে, কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য। এটা আসলে দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এক বছরে করে ফেলার মতো কাজ না। আমরা এমন পলিসি নেওয়ার চেষ্টা করছি যাতে করে ক্রীড়াঙ্গন দীর্ঘমেয়াদে ভালো করতে পারে।"

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত