ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

জেনে নিন ঘন ও স্বাস্থ্যকর চুলের গোপন রহস্য

ডুয়া নিউজ- লাইফস্টাইল
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১৬:৩৯:৪৯
জেনে নিন ঘন ও স্বাস্থ্যকর চুলের গোপন রহস্য

চুলের যত্ন নিতে আমরা বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করি, কিন্তু কেবল বাইরে থেকে যত্ন নিলেই তা যথেষ্ট নয়। ঘন ও স্বাস্থ্যকর চুল পেতে হলে সঠিক পুষ্টি ও পরিচর্যাও সমানভাবে জরুরি। চুল বিশেষজ্ঞ ও ত্বকের চিকিৎসকরা মনে করেন, ব্যস্ত জীবনযাপন, ধুলো ও পরিবেশগত দূষণের কারণে চুলের ক্ষতি হয়, যা সঠিক পরিচর্যা এবং পুষ্টির অভাবে আরও বাড়ে। চুল ভালো রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলা প্রয়োজন।

চুলের যত্ন, পুষ্টি ও পরিচর্যার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক১. চুলের ধরন অনুযায়ী পরিচর্যাপ্রত্যেকের চুলের ধরন আলাদা। কারও চুল তৈলাক্ত, কারও রুক্ষ, আবার কারও সরল বা কোঁকড়ানো। তাই চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার এবং মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। যেমন, কোঁকড়ানো চুলের জন্য যে শ্যাম্পু কার্যকর, তা তৈলাক্ত চুলের জন্য নাও হতে পারে। ডগা ফাটার সমস্যা থাকলে নিয়মিত সেই অংশ ছেঁটে ফেলা এবং পর্যাপ্ত ময়শ্চারাইজেশন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

২. স্বাস্থ্যকর ডায়েটচুলের স্বাস্থ্য কেবল বাইরে থেকে যত্নের ওপর নির্ভর করে না, সঠিক পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ। চুলের মূল উপাদান কেরাটিন প্রোটিন। তাই প্রোটিন, ভিটামিন এ, সি, বায়োটিন, জিঙ্ক ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক। মাছ, মাংস, ডিম, তাজা সবজি, ফল, বাদাম এবং বীজ—এগুলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর, যা চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৩. মাথার ত্বকের যত্নচুল পড়া বা নতুন চুল গজানোর সঙ্গে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য সরাসরি জড়িত। মুখের ত্বকের মতো মাথার ত্বকও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। মাসে অন্তত ১-২ বার মাথার ত্বক এক্সফোলিয়েট (scrub) করা উচিত। বাজারের স্ক্রাবার বা ঘরে তৈরি স্ক্রাব দিয়ে আলতোভাবে ১০-১২ মিনিট মালিশ করলে মৃত কোষ ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার হয়ে যায়।

৪. তেল মালিশ ও খুশকি প্রতিরোধনিয়মিত তেল মালিশ করলে মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, চুলের ফলিকল শক্ত হয় এবং চুল পড়া কমে। নারকেল, আর্গান ও অলিভ অয়েল চুলের জন্য খুব ভালো। যদি খুশকি বা ত্বকের সংক্রমণ থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ এটি চুলের বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

৫. শ্যাম্পু ও মাস্কের ব্যবহারচুলের ধরন অনুযায়ী মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। যদি নিয়মিত বাইরে যেতে হয়, তাহলে প্রতি ২-৩ দিনে শ্যাম্পু করা উচিত। ভিজে চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল নরম ও মসৃণ থাকে। সপ্তাহে একবার বা মাসে ২-৩ বার ঘরে তৈরি মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। টক দই, মেথি বাটা বা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে তৈরি মাস্ক চুলের জন্য বেশ উপকারী। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা, সূর্যের আলো থেকে চুলকে রক্ষা করা এবং নিয়মিত পরিচর্যা করলে চুল স্বাস্থ্যকর ও ঘন হবে।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত