ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
অবশেষে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলো বিএনপি
বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা সুবিধাবাদী ও হাইব্রিড নেতাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতাকর্মীরা তাদের ষড়যন্ত্রে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। অভিজ্ঞ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ক্ষোভ বাড়ছে।
দুঃসময়ে মামলাহামলা ও হুমকির ভয়ে গুটিয়ে থাকা অনেক নেতা এখন সক্রিয় হলেও তাদের অনেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক মঞ্চে বিএনপির নামে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনার পর বিদেশ থেকে ফিরে এসে কিছু নেতা নিজেদের ‘নির্যাতিত’ দাবি তুলে মনোনয়ন পেতে লবিং-তদবিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুবিধাবাদীদের ‘বসন্তের কোকিল’ আখ্যায়িত করে সতর্ক করেছেন। তবে প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় এদের প্রভাব ও লবিং কার্যক্রম বেড়েই চলছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি মাঠে সক্রিয় হচ্ছে। ত্যাগী নেতারা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়লেও সুবিধাবাদী ও হাইব্রিড নেতারাও নানা কর্মকাণ্ড বাড়াচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দলে প্রভাব বিস্তার করছেন এবং কমিটিতে নিজেদের লোক বসাচ্ছেন যা ত্যাগী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির কমিটিতে অধিকাংশ সদস্য আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদী বলে অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে ময়মনসিংহের এক উপজেলা কমিটির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগ রয়েছে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বারবার এসব নেতাদের বিষয়ে সতর্ক করেছেন, সাংগঠনিক শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। দলের ছাঁকনি দিয়ে এসব ‘আবর্জনা’ ঝেড়ে ফেলতেই হবে।”
সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিএনপির কমিটিতে জায়গা দেওয়ায় ত্যাগী নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র হয়েছে। বিরোধিতা সত্ত্বেও সুবিধাবাদীরা বিভিন্নভাবে দলীয় কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে।
ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, সুবিধাবাদীদের কারণে তারা অনেক সময় নয়াপল্টনে প্রবেশের সুযোগ পান না, যা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্যও বিব্রতকর হয়ে উঠছে।
ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, “যারা দুর্দিনে দালালি করেছে, নিষ্ক্রিয় থেকেছে, তারা এখন দলের নামে অপকর্ম করছে। ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।”
স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, “দলের কাছে আন্দোলনের অবদানই মুখ্য। মনোনয়ন ও মূল্যায়নে সেটিই প্রতিফলিত হবে। তবে সুবিধাবাদী নেতা যে থাকবে, সেটাও বাস্তবতা।”
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। অভিযোগ পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে ধারাবাহিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি