ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
গোয়েন্দাদের যেভাবে ‘বোকা’ বানানো হয় কাশ্মীর হামলায়
ডুয়া ডেস্ক: কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ হামলার তদন্ত করছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শতাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হলেও হামলাকারীদের এখনো খুঁজে বের করতে পারেনি তারা।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে হামলাকারীরা নিজেদের যোগাযোগের জন্য কিছু নিষিদ্ধ ও দুর্ভেদ্য ‘চীনা মোবাইল অ্যাপ’ এবং ‘স্যাটেলাইট ফোন’ ব্যবহার করেছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, পেহেলগামের হামলার পরিকল্পনা ওই অ্যাপগুলোর মাধ্যমেই হয়েছিল। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর যেসব অ্যাপ ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়, সন্ত্রাসীরা ঠিক সেগুলোই ব্যবহার করেছে। এসব অ্যাপে তথ্য লুকানোর প্রযুক্তি এতটাই উন্নত যে, বাইরের কেউ সহজে নজরদারি করতে পারে না।
হামলার দিন একটি চীনা স্যাটেলাইট ফোনের সংকেত গোয়েন্দারা শনাক্ত করলেও তা ধরতে ব্যর্থ হন। এটাই মূলত গোয়েন্দা বিভ্রান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নেয়। আটারি সীমান্ত বন্ধ করে পাকিস্তানি নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হয়, সব ধরনের ভিসা বাতিল করা হয়, এমনকি সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন চুক্তিও স্থগিত করা হয়।
এর জবাবে পাকিস্তানও কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। ইসলামাবাদ ঘোষণা করে, তারা সিমলা চুক্তি স্থগিত করেছে, ভারতের জন্য আকাশসীমা নিষিদ্ধ করেছে এবং সব রকম বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করে দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, ভারতের পদক্ষেপকে তারা ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ হিসেবে দেখছে এবং প্রয়োজনে যেকোনো মূল্যে নিজেদের অধিকার রক্ষা করবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফও হুঁশিয়ারি দেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পাকিস্তানকে কেউ ঠেকাতে পারবে না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাল্টা কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, পেহেলগামের ভয়াবহ হামলার পর গোটা দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দিল্লি এখনো এমন কোনো জোরালো প্রমাণ দেখাতে পারেনি যা সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে। তাই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের পদক্ষেপ ন্যায্যতা পেতে বাধার মুখে পড়তে পারে।
ইতিমধ্যে ইরান ও বাংলাদেশ মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয় পক্ষকে সংযম ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপকে জোরালোভাবে সমর্থন জানাচ্ছেন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘ছয় মাসে জুলাই সনদের একটি অক্ষরও বাস্তবায়ন করেনি বিএনপি’
- ফের বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল
- ঢাবিতে গ্রিন নেক্সাস কর্মসূচি সমাপ্ত
- মেসির ১০ নম্বর জার্সি কি অবসর নিতে পারবে?
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ