×

ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

২০২৬ অক্টোবর ১২ ২০:৫৩:১২

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের দিকে সোমবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে বিমানবন্দরের যাত্রীদের প্রস্থান টার্মিনালে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছিল ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী।

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবের দিকে ধেয়ে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। তবে সেগুলো প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহ থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

হামলার কারণে সৌদি আরবের আকাশসীমার কিছু অংশ বন্ধ রয়েছে। রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় রাজধানীর আকাশপথেও বিমান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রিয়াদে একটি বড় জ্বালানিবিষয়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সৌদি আরব বর্তমানে জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি। গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালি থেকে হুতিদের সরিয়ে দেওয়া এবং সেপ্টেম্বরে গোষ্ঠীটির আকস্মিক অগ্রগতির পর তাদের আরও এলাকা দখল ঠেকাতে দেশটি আবারও ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।

ইয়েমেনের সামরিক সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে অন্য কয়েকটি রণাঙ্গনে তারা এখনো পিছিয়ে রয়েছে। ফলে হুতিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে আরও সময় লাগতে পারে।

সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে রিয়াদের বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ সহজ করতে সহায়তার প্রস্তুতির কথা তেহরান বারবার জানিয়েছে।

এদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি বিমান হামলা জোরদার হলেও দেশটির অবকাঠামোয় হামলা কমানোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না গোষ্ঠীটির মধ্যে। সোমবার ইয়েমেনের টেলিভিশনে আল-জাওফ প্রদেশেও হামলার খবর জানানো হয়।

বিমানবন্দর, আকাশসীমা ও সৌদি তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি বারবার দিয়ে আসছে হুতিরা। এসব তেল স্থাপনা সৌদি আরবের অর্থনীতি এবং দেশটির উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপের আহ্বান আমিরাতের

সোমবার এক সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান বলেন, বৃহত্তর অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্যের অংশ হিসেবে বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে তাঁর দেশ। তিনি জানান, সৌদি আরবের জ্বালানি ব্যবস্থা ও শিল্প সক্ষমতার উন্নয়ন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের ওপর হামলার জবাবে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে উপসাগরীয় সব দেশের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্মিলিত নিরাপত্তাকে অবহেলা করার কারণেই অন্যরা আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পেয়েছে।

ইয়েমেন সংঘাতে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একসঙ্গে কাজ করলেও দেশটির সরকারকে সমর্থনকারী সামরিক জোটের ভেতরে তারা ভিন্ন ভিন্ন বাহিনীকে সহায়তা দিয়েছে। গত বছর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক পদক্ষেপের লক্ষণ দেখা যায়নি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত