×

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

হেনস্তার পর উপাচার্যকে চেয়ারে বসালেন ভূমিমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ০৯ ১৫:০৫:০৮

হেনস্তার পর উপাচার্যকে চেয়ারে বসালেন ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হককে তাঁর দপ্তরের চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে উপাচার্যকে তাঁর দপ্তরে নিয়ে যান মন্ত্রী।

উপাচার্যের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক আচরণে জড়িত ব্যক্তিরা দুষ্কৃতকারী। তাঁদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই, তাঁরা সমাজের শত্রু।

রাজশাহীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া হবে না জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপাচার্যকে সাহস ধরে রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি সাহস ধরে থাকেন। রাজশাহীকে আমাদের এগিয়ে নিতে হবে।’

এর আগে গত মঙ্গলবার রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে হেনস্তা করে জোরপূর্বক একটি কাগজে সই নেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাঁর কক্ষে প্রবেশ করে একটি কাগজে সই করতে বলে। তাঁকে কাগজটি পড়ে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সই না করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে তিনি তাতে সই করেন। তাঁর ধারণা, কাগজটি ছিল পদত্যাগপত্র।

এ ঘটনায় উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী ও সেকশন অফিসার (অর্থ) নাজমুল হোসাইন বাধা দিতে গেলে তাঁকেও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে উপাচার্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া দপ্তরের কম্পিউটারের সিপিইউ, সিসিটিভি ক্যামেরার সরঞ্জামসহ অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি দপ্তরে তালা লাগানোর অভিযোগ করেন উপাচার্য।

ঘটনার পর গত মঙ্গলবার রাতে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, সরঞ্জাম চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপাচার্যকে তাঁর উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে উপাচার্যের দপ্তরের তালা খোলা হয়।

উপাচার্যকে দপ্তরে নিয়ে যাওয়ার পর ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় প্রকল্প মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভালো আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের পক্ষে সীমিত সময়ে অনেক রোগী দেখা সম্ভব নয়। এ কারণে চিকিৎসকদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল এলাকায় আরও বেশি গাছ লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

এ সময় রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ অপকর্মের চেষ্টা করলে দল-মত নির্বিশেষে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারে না।

নিজের দপ্তরের চেয়ারে বসার পর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক জানান, ঘটনার পরপরই তিনি ভূমিমন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। তাঁরা সবাই তাঁকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি এবং মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক প্রমুখ।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত