×

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

১০৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ২০:৪৭:৫৫

১০৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোলার দৌলতখান উপজেলায় ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এতে এসব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, তদারকি এবং পাঠদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবে, ১০৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৩৩টিতে প্রধান শিক্ষক কর্মরত। বাকি বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২১ জন শিক্ষক চলতি দায়িত্বে এবং ৫২ জন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

শুধু প্রধান শিক্ষক নয়, উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের ৫৪টি পদও খালি রয়েছে। এর মধ্যে নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ জন সহকারী শিক্ষক ইতোমধ্যে শূন্য পদে যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া ১০৬টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি রয়েছেন ৬৩ জন।

প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ দীর্ঘদিনেও পূরণ না হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের প্রতিদিনের দাপ্তরিক কাজ, প্রশাসনিক তদারকি এবং নিয়মিত পাঠদান পরিচালনায় এতে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

উপজেলার মধ্য হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রহমান আজাদ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং দায়িত্ব পালনে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

দক্ষিণ জয়নগর শমাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল আসমা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক না থাকায় সুষ্ঠুভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করা বেশ কষ্টের।’

দৌলতখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন চারজন। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বেগম বলেন, ‘বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষকের বিপরীতে আছেন চারজন। এর ওপর প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় পাঠদানসহ দাপ্তরিক কাজে চরম বিঘ্ন ঘটছে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মু. জাহিদ উদ্দিন জানান, আইনি জটিলতার কারণে এতদিন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ ছিল। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। প্রধান শিক্ষকের খালি পদগুলোও দ্রুত পূরণ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত