ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সংবিধানে ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বাধ্যতামূলক গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও বাধ্যতামূলক গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা এবং এর বীর রাজনৈতিক ও সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের (জুলাই যোদ্ধা) সুনির্দিষ্ট তফসিলে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা বা দায়মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটির বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ভিত্তিতেই নতুন সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে স্বাক্ষর করেছে, সরকার সেভাবেই এটি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি সংবিধানে এমন পরিবর্তন আনা হবে, যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সাংবিধানিক সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত নিশ্চিত করতে গণভোটের বিধান পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরে আসে।
তিনি জানান, ষষ্ঠ বৈঠকে মোট ৬৩ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকা থেকে (জুলাই যোদ্ধাদের) প্রতিনিধি হিসেবে শহীদদের মা-বাবা, ভাই এবং আহতদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং বিশেষ করে জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সংবিধানের উপযুক্ত স্থানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তাঁদের কেউ কেউ বিষয়টি সংবিধানের প্রস্তাবনায় যুক্ত করার প্রস্তাবও দেন। কমিটির পক্ষ থেকে তাঁদের জানানো হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলো যেভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, সংবিধানেও সেভাবেই তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাঁদের সব প্রস্তাব লিখিতভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
জুলাই যোদ্ধাদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে যে আইন করা হয়েছিল, সেটি বহাল রয়েছে। তবে বিচারিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি জটিলতা এড়াতে তফসিলে সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং শেখ হাসিনাসহ তাঁর দোসরদের বিচারের গতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন প্রতিনিধিরা। বিচার কার্যক্রমে সরকার ও আদালত স্বাধীন হলেও তদন্ত, প্রসিকিউশন ও চার্জ গঠনের মতো বিচারসহায়ক কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ আন্তরিক বলে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির অধীনে অন্যান্য আদালতে চলমান মামলাগুলো নিবিড়ভাবে তদারকির মাধ্যমে নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দীর্ঘ ছয়-সাত মাসের আলোচনার ভিত্তিতে একটি জাতীয় ঘোষণাপত্র তৈরি হয়েছিল। এতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। সংবিধানের তফসিলে এটিকে এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে তা আইনি রূপ পায় এবং জুলাই যোদ্ধারা সাংবিধানিক দায়মুক্তি ও নিরাপত্তা পান।
বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান ও মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় সনদে যেভাবে স্বাক্ষর করেছে, সরকারও সেভাবেই কাজ করছে। নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে সনদ বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই, কারণ ঐকমত্য সেই ভিত্তিতেই হয়েছিল। জাতীয় স্বার্থ এবং নির্বাচনী ইশতেহারের বিষয়গুলো যুক্ত করে একটি সর্বজনগ্রাহ্য বিল সংসদে জমা দেওয়া হবে।
সংবিধানে গণভোট ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আগে যে গণভোটের কথা বলা হয়েছিল, সেটি ছিল আইনি গণভোট। তবে সামনে যে পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে গণভোট হবে পুরোপুরি সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক। সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮-এ উল্লিখিত মূলনীতি, অনুচ্ছেদ ৪৮, ৫৬ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো বিষয়ে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে সংশোধনের পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে জনগণের রায়ের জন্য গণভোট আয়োজন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাদ দেওয়াকে হাইকোর্ট ইতোমধ্যে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। আইনের ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’ বা গ্রহণ তত্ত্বের আলোকে ওই বাতিলের সিদ্ধান্তও দূর হয়ে আগের আইনি অবস্থা বহাল হয়েছে। সংসদে এটি পুরোপুরি প্রতিস্থাপিত হলে গণভোট নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামোর বিষয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৯৬ বা ২০০৬ সালের ব্যবস্থার হুবহু অনুকরণে কিছু করা হচ্ছে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন এবং কী প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকার গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে সরকার সমাজের সব স্তরের মানুষ, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, বিচারক, সাবেক বিচারপতি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের মতামত নিচ্ছে। অতীতে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় রাষ্ট্রপতির কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের দায়িত্ব অর্পণের শেষ অপশনটি বাদ দেওয়ার পক্ষে সরকারের অবস্থান রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে কেউ রাজপথে লংমার্চ বা কর্মসূচি পালন করলে সেটিকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে দেখা হবে। তবে চূড়ান্ত সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত সংসদের আলোচনার মাধ্যমেই নেওয়া হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৪৩ পদে নিয়োগ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আবেদন অনলাইনে
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- অক্টোবরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা মন্ত্রণালয়ের
- চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ
- পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নতুন নির্দেশনা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩০ সেপ্টেম্বর)
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এনএসইউ, নেই ঢাবি-বুয়েট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার চেক ছাড়
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন লাগবে না