×

ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নিয়োগপত্রের দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে আমরণ অনশন

২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১২:৫৩:১৪

নিয়োগপত্রের দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে আমরণ অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। রংপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি জেলার এসব প্রার্থী রবিবার (৪ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মূল ফটকের সামনে এ কর্মসূচিতে বসেন।

অনশনরত প্রার্থীদের ভাষ্য, এখনো শতাধিক প্রার্থী নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপ সম্পন্ন করার পরও কেন তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তার নির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে। পাশাপাশি যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা নিয়োগে আইনগত বাধা নেই, তাঁদের দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রার্থীরা।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন ও তথ্য যাচাই-বাছাই ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এরপরও কেউ নিয়োগপত্র না পেলে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী সময়ে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

সেদিন মন্ত্রী বলেছিলেন, তখন পর্যন্ত ৮১৭ জনের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। তাঁদের ভেরিফিকেশন, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য ধাপে ধাপে যাচাই করা হচ্ছিল। যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর চূড়ান্তভাবে কতজন নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন, সেটি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন হচ্ছে, ঠিকানা আসছে। যাদের হয়নি, সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং সেগুলো রিভিউ করছি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এটা চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপটু ফার্স্ট অক্টোবর পর্যন্ত আসবে। সেখানে ফাইনালি যে সংখ্যাটা হয়, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করব।’ অর্থাৎ ১ অক্টোবরের পরও যাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না, তাঁদের বিষয় পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।

তবে ১ অক্টোবর পার হয়ে যাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় আজ থেকে আমরণ অনশনে বসেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়োগপত্র বঞ্চিত প্রার্থী আব্দুলাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছি এবং আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরেও আমরা কোনো এক অজানা কারণে বাদ পড়েছি। আমরা নিজেরাও জানি না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একবার ডিপিও অফিসে, একবার এখানে আসছি। ঘোরাঘুরি, দৌড়াদৌড়ি করছি। কিন্তু কোনো সদুত্তর পাচ্ছি না।’

আব্দুলাহ আল মামুন আরও বলেন, ‘মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না। তাহলে আমাদের অপরাধটা কী? আমাদের কেন এখনও বাদ দিয়ে রাখা হয়েছে?’

নিজের নামে কোনো মামলা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নামে কোনো স্পেসিফিক মামলাও নেই। জেলা শিক্ষা অফিসে প্রতিদিন যাচ্ছি। এখনও আমার বাবা সেখানে আছেন। সেখানকার কর্মকর্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে যাদের নামে আমাদের বলা হবে, আমরা তাদের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করব। আমাদের হাতে কিছু নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি অধিদপ্তরে দরখাস্ত দিয়েছি, প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসেও দরখাস্ত দিয়েছি। সেটার রিসিভ কপি আমার কাছে আছে। কিন্তু আমাদের আর কিছু জানানো হয়নি। আমাদেরকে স্পেসিফিক কারণ জানানো হোক কেন বাদ দেওয়া হলো।’

অন্য এক নিয়োগপত্র বঞ্চিত প্রার্থী বলেন, ‘২৪ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর নিয়োগপত্র ইস্যু করা হলেও আমাদের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও জানানো হচ্ছে না। ‘মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না। তাহলে আমাদের অপরাধ কী?’

নিয়োগপত্র বঞ্চিতদের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, অধিদপ্তরে এসে অনশন করে তাঁদের কোনো লাভ হবে না। তাঁদের নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যেতে হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘স্পেসিফিক মামলা ছাড়া সবাইকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। যদি মামলা না থাকে, তাহলে কাগজপত্রসহ সব প্রমাণ নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসে আবারও যেতে হবে।’

নিয়োগপত্র বঞ্চিতদের জন্য পদায়নের সময় বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যাদের কোনো প্রকার অসুবিধা নেই, তাদের নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্যই তো পদায়নের সময় বাড়ানো হয়েছে।’

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত