ঢাকা, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

জাতিসংঘকে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ইচ্ছা জানাল ট্রাম্প

২০২৬ আগস্ট ২২ ২১:১১:১৭

জাতিসংঘকে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ইচ্ছা জানাল ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:বকেয়া পরিশোধ এবং বৈশ্বিক এই সংস্থায় নিজেদের অবদান বজায় রাখতে জাতিসংঘকে ৭২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে অবহিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর ঠিক আগে গত ৪ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে কংগ্রেসে পাঠানো একটি চিঠির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বহু বিলিয়ন ডলারের বকেয়া থাকা জাতিসংঘের জন্য বিশ্ব সাহায্য সংস্থাগুলোর মতে, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। খবর রয়টার্সের।

জাতিসংঘের বিরুদ্ধে ক্রমাগত অদক্ষতা ও অপচয়ের অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকটি সহযোগী সংস্থার অর্থায়ন কমিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই অনুদান দেওয়ার বিষয়ে একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, অর্থ প্রদান প্রক্রিয়া পুরোপুরি নির্ভর করবে জাতিসংঘ কতটা প্রশাসনিক সংস্কার আনছে তার ওপর। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত জাতিসংঘে এই তহবিলের কোনো অংশই হস্তান্তর করা হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে মারাত্মক আর্থিক সংকটে রয়েছে জাতিসংঘ। চলতি বছরে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছিলেন, সদস্যদেশগুলো সময়মতো বকেয়া পরিশোধ না করায় আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানটি চরম দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বসংস্থাটিতে নজিরবিহীন সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করেছে। এর ফলে জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ছাঁটাই করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাজেটে ব্যয় কমানো এবং চীনা প্রভাব মোকাবিলার মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই কেবল যুক্তরাষ্ট্র তাদের বরাদ্দ দেওয়া শুরু করবে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির পাওনা ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বকেয়ার তুলনায় ৭২৫ মিলিয়ন ডলারের এই অর্থের পরিমাণ ২০ শতাংশেরও কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের প্রকৃত দেনা এই হিসাবের চেয়ে অনেক কম এবং তারা মাঝেমধ্যেই অর্থ পরিশোধ করে আসছে।

সাবেক জাতিসংঘ কর্মকর্তা ইউজিন চেন সতর্ক করে বলেন, এই অনুদান সাময়িকভাবে কর্মীদের বেতন পরিশোধে সহায়তা করলেও সামগ্রিক সংকট সমাধানে তা যথেষ্ট হবে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী কিস্তির অর্থ সময়মতো পরিশোধ না করলে জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র তার ভোটাধিকার হারাতে পারে। তবে এই বড় অঙ্কের অর্থ কিছুটা হলেও জাতিসংঘের দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্বস্তি আনবে বলে মনে করছেন জার্মানির গবেষণা সংস্থা আইডিওএসের আর্থিক বিশেষজ্ঞ রনি প্যাটজ।

বিশ্বসংস্থাটির পরিচালন ব্যয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখা যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের মেয়াদে একাধিক জাতিসংঘ সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিয়মিত ও শান্তিরক্ষা বাজেটেও অর্থ দেওয়া বন্ধ রেখেছে দেশটি।

গত ১৮ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ১২৯টি দেশ তাদের পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থ প্রদানকারী দেশ চীনও এ তালিকায় নেই।

আর্থিক সংকট কাটাতে জাতিসংঘ ‘ইউএন৮০’ নামের একটি সংস্কার কর্মসূচির অধীনে কাজ করছে। এর আওতায় ২০২৬ সালের বাজেট ইতোমধ্যে ৯ দশমিক ২ শতাংশ কমানো হয়েছে। ব্যয় কমাতে নিউইয়র্ক ও জেনেভার মতো ব্যয়বহুল শহর থেকে ২ হাজারের বেশি পদ তুলনামূলক কম খরচের শহরগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত