ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সমঝোতা শেষ, ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) মেয়াদ শেষ হওয়া ওই সমঝোতা আর বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে ‘আত্মসমর্পণের জন্য সাদা পতাকা ওড়ানোর’ আহ্বান জানিয়ে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার দাবিও করেছেন তিনি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ সোমবার শেষ হয়েছে। এরপর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের কারণে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার এখন আর কোনো কার্যকারিতা নেই।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে জবাব দিতে দেশটির বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে করা কাঠামোগত সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওই সমঝোতা হয়েছিল। সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে, ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কি না-জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না’।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা শেষ হলেও এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়নি। জুনের সমঝোতায় বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনার এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।
দুই দেশ চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা করতে চায়। তবে তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি চায়, তাতে তেহরান রাজি নয়।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি যে ধরনের চুক্তিকে প্রয়োজনীয় মনে করি, তারা সেই ধরনের চুক্তি করবে না।’ তিনি আবারও বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেখানে একটি কারণেই আছি-ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। আপনারা বুঝতে পারছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না এবং তাদের তা থাকবেও না।’
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে আবারও প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি দারুণ একটি ধারণা।’ তিনি দাবি করেন, নৌ অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছি। নৌ অবরোধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছি। আমাদের অবরোধ রয়েছে এবং এর মাধ্যমেই আমরা প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করছি। এটিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করার ধারণাটি আমার ভালো লাগে।’
তার দাবি, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। তবে ইরান কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে প্রতি সপ্তাহে ওই অঞ্চল দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি সপ্তাহে হয়তো লাখ লাখ ব্যারেল তেল বের করে আনছি। হয়তো এটি বন্ধ হয়ে যাবে, অথবা আরও বেশি উন্মুক্ত হয়ে যাবে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রণালিটি খোলা আছে, তেলের দাম কমছে এবং আরও কমতে থাকবে-যদি না আমরা এখনকার চেয়ে অনেক বেশি কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান ‘বড় সমস্যার মধ্যে’ রয়েছে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- বিমান বাহিনীতে ৪৫ ক্যাটাগরিতে ৩৪২ শূন্যপদে চাকরির সুযোগ
- শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেবে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে
- ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, ৫৮ জন শনাক্ত
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- পরীক্ষা ছাড়া একাদশে ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৭ পদে নিয়োগ
- মালয়েশিয়ায় এসডিজি ইনোভেশন সামিটে পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির সুযোগ
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের অভিনন্দন
- বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে
- রঞ্জন কর্মকারের মৃ'ত্যুতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শোক প্রকাশ
- সমকামিতার অভিযোগে ঢাবির দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
- যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফেরেননি, ঢাবি অধ্যাপককে অব্যাহতি