×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

শান্তি প্রস্তাবে নেতানিয়াহুর আপত্তি কোথায়?

২০২৬ আগস্ট ১৯ ২১:০৫:১০

শান্তি প্রস্তাবে নেতানিয়াহুর আপত্তি কোথায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইসরাইল সফর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। সফরে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে কুশনারের এই উদ্যোগের পরও যুদ্ধবিরতি নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। হামাস শান্তি পরিকল্পনায় সম্মতি জানালেও নেতানিয়াহু তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এমন অনড় অবস্থানের পেছনে রয়েছে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক সমীকরণ। তাঁদের ধারণা, শান্তিচুক্তিতে পৌঁছালে রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুর খুব বেশি লাভ নেই। বরং গাজা, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত অব্যাহত রেখে তিনি দেশের মানুষের কাছে নিজেকে একমাত্র যোগ্য ‘নিরাপত্তা অভিভাবক’ হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।

ইসরাইলের বড় একটি অংশের জনমতও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। ফলে নেতানিয়াহু সেই কট্টর মনোভাবকে কাজে লাগাচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এমনকি মার্কিন চাপের মুখেও ওয়াশিংটনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি নিজের সমর্থকদের কাছে আরও দৃঢ় অবস্থানের নেতা হিসেবে ভাবমূর্তি তৈরি করছেন।

যুদ্ধ অব্যাহত রাখার আরেকটি দিক নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত আইনি সুরক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলমান দুর্নীতির মামলায় আদালতের কার্যক্রম পেছাতে যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৈঠক কিংবা বিদেশ সফরের মতো কারণ দেখানোর সুযোগ তিনি পাচ্ছেন।

এদিকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাণিজ্য চাঙা থাকলেও এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ওইসিডি ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ইসরাইলের অর্থনীতিকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক সতর্কতা কিংবা হোয়াইট হাউসের জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা-কোনোটিই এখন পর্যন্ত নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান থেকে নেতানিয়াহুকে সরাতে পারেনি।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত