ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধকৌশল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের হুমকি দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কৌশল ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা অন্য দেশগুলোকেও কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এই কঠোর ঘোষণার পরও প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক ব্যয় বাড়তে থাকলে তিনি শেষ পর্যন্ত এই অবস্থানে কতটা অটল থাকবেন। অতীতেও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প একাধিক কঠোর পদক্ষেপ ও হুমকি দিয়েছিলেন। পরে সেসব অবস্থান থেকে সরে আসার নজিরও রয়েছে। ফলে এবার ঘোষিত অর্থনৈতিক যুদ্ধকৌশল কতদিন কার্যকর থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বোমাবর্ষণ করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা কিংবা সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় বসতে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের নতুন কৌশলকে নিজেদের মুখ রক্ষার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক মিত্রদের জানানো হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ইরানকে সম্পূর্ণ নতি স্বীকারে বাধ্য করতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে যেকোনো ধরনের সুবিধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তেল চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, ভুয়া কোম্পানি ও জাহাজের নিবন্ধনের মতো সব পথ অবিলম্বে বন্ধ করার তাগিদ দেন তিনি।
ইসরাইল ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের সাবেক ইরান-বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল সিট্রিনোভিচ জানান, তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ইরান ভেঙে পড়বে-এমনটি ভাবা চরম ভুল হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার যে কৌশল তেহরান নিয়েছে, তা পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই। অর্থনৈতিক ক্ষতি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ইরানের মূল রাজনৈতিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও মনে করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ধৈর্যের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) রাজস্ব এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সমন্বয়ে বড় ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লুদোভিক হুড মনে করেন, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের উচিত ইরানের তেলের বড় ক্রেতা চীনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। তবে আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ওয়াশিংটন এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে ইরানেরও পাল্টা জবাব দেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে মার্কিন ভোটারদের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারে তেহরান।
ডেমোক্রেট প্রতিনিধি জেমস ওয়াকিনশ এ বিষয়ে জানান, তিনি এমন কোনো অর্থনৈতিক ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে আগ্রহী নন, যেখানে মার্কিন জনগণকে গ্যাস স্টেশন ও মুদি দোকানে এর চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয়। ফলে ট্রাম্পের এই নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান আনবে, নাকি রাজনৈতিক চাপে তিনি পিছু হটবেন-তা এখনো বড় প্রশ্ন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- আগামী ১০ বছরে যেসব চাকরির চাহিদা বাড়বে, জেনে নিন
- কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- জিয়া উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার শারীরিক সম্পর্ক, ৭ বছরের জেল
- এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর