ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে দিল্লির ইতিবাচক বার্তা

২০২৬ আগস্ট ১৮ ২০:৫৫:৩০

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে দিল্লির ইতিবাচক বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ। বিষয়টি ভারত সরকার প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অবস্থান জানান। তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে সফরের জন্য ‘অনুকূল’ পরিস্থিতি তৈরির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

এ ক্ষেত্রে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফেরত পাঠানোর শর্ত দিয়েছে ঢাকা।

শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘এসব অনুরোধ আমাদের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ভারত সরকার দেশটির আদালতের হাতে ছেড়ে দিতে চাইছে সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়।

গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাঁর ওই সংবাদ সম্মেলন তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করছে বলে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রণধীর জয়সওয়াল ভারতের আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা দেয়।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে টানাপড়েনের আলোচনা হলেও রণধীর জয়সওয়াল বলেন, নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, ভারত পারস্পরিক স্বার্থ ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক চায়।’

তিস্তা নদীসহ দুই দেশের অভিন্ন নদী ও পানি-সম্পর্কিত সহযোগিতার বিষয়গুলো দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

জয়সওয়ালের ভাষ্যে, ‘দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি অভিন্ন নদী রয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে বললে, ৫৪টি নদী দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন। পানি-সম্পর্কিত সব সহযোগিতা বা আলোচনা দুই দেশের মধ্যে থাকা যৌথ নদী কমিশনসহ বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ সংলাপ ব্যবস্থার মাধ্যমেই করতে হবে।’

দুই দেশের সম্পর্কের নানা আলোচনার মধ্যেও বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার অবস্থানই তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত