ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে দিল্লির ইতিবাচক বার্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ। বিষয়টি ভারত সরকার প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অবস্থান জানান। তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে সফরের জন্য ‘অনুকূল’ পরিস্থিতি তৈরির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এ ক্ষেত্রে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফেরত পাঠানোর শর্ত দিয়েছে ঢাকা।
শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘এসব অনুরোধ আমাদের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার ভারত সরকার দেশটির আদালতের হাতে ছেড়ে দিতে চাইছে সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়।
গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাঁর ওই সংবাদ সম্মেলন তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করছে বলে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রণধীর জয়সওয়াল ভারতের আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা দেয়।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে টানাপড়েনের আলোচনা হলেও রণধীর জয়সওয়াল বলেন, নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, ভারত পারস্পরিক স্বার্থ ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক চায়।’
তিস্তা নদীসহ দুই দেশের অভিন্ন নদী ও পানি-সম্পর্কিত সহযোগিতার বিষয়গুলো দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
জয়সওয়ালের ভাষ্যে, ‘দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি অভিন্ন নদী রয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে বললে, ৫৪টি নদী দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন। পানি-সম্পর্কিত সব সহযোগিতা বা আলোচনা দুই দেশের মধ্যে থাকা যৌথ নদী কমিশনসহ বিদ্যমান কাঠামোবদ্ধ সংলাপ ব্যবস্থার মাধ্যমেই করতে হবে।’
দুই দেশের সম্পর্কের নানা আলোচনার মধ্যেও বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার অবস্থানই তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত
- শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর