ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

হাম নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও ২-৩ মাস সময় লাগবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৪:১৩:১৯

হাম নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও ২-৩ মাস সময় লাগবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় উন্নতি করতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে শিশুদের হাম নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যা এক দিন বা এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে এমন অবাস্তব প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। হাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে এম এ মুহিত বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে এ খাত নানা সংকটে পড়েছিল। অন্যদিকে দেশে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বড় নেটওয়ার্ক থাকলেও সেখানে মান নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফার বিষয়টি যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি ও বারডেমের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিশুস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় শহরে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালু হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কাটাতে দ্রুত ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক, ১ হাজার নার্স ও ১ লাখ নতুন মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

সভায় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিহাই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণার ফলাফলও তুলে ধরা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ ছিল তীব্র অপুষ্টির শিকার এবং ৫৩ শতাংশের ছিল মাঝারি অপুষ্টি।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। আক্রান্ত শিশুদের ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি। মারা যাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৮২ শতাংশ। অর্থাৎ, হামে মারা যাওয়া শিশুদের বড় একটি অংশ জীবনের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত ছিল।

এ ছাড়া নিয়মিত টিকা পাওয়ার বয়স হয়নি এমন ৯ মাসের কম বয়সী আক্রান্ত শিশুদের ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া শিশুদের মধ্যে এ হার ছিল ৯৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। সব মিলিয়ে এ সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১৮ জনে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী।

গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত