×

ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

‘দফা বাড়তে বাড়তে এক দফা হবে কেন’, প্রশ্ন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

২০২৬ অক্টোবর ০২ ১৬:৩৫:৪৮

‘দফা বাড়তে বাড়তে এক দফা হবে কেন’, প্রশ্ন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিরোধী দলের বিভিন্ন দফা ও সরকারের পদত্যাগের দাবির প্রসঙ্গ তুলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রশ্ন করেছেন, দফা বাড়তে বাড়তে আট থেকে ১০ এবং ১০ থেকে ১৬ দফা হবে; তাহলে এক দফা কেন হবে?

তিনি বলেন, ‘আমরা কথায় বিশ্বাস করি না, কাজে বিশ্বাস করি।’ নির্বাচনে জয়লাভের সাত মাস পেরিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যেই সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারগুলো সারা দেশে দৃশ্যমান করা হচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে (২ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোয়ালমারী বারুনী ঘাটে করতোয়া নদীর তীর রক্ষা বাঁধের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকলে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, সরকারের কর্মসূচি বা উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডে কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। কিন্তু সাত মাসের মাথায় বিরোধীরা একটি করে আট দফা, এরপর সেই দফা আগামী মাসে আরও বাড়তে পারে এবং বাড়তে বাড়তে এক দফা হবে—এমন কথা বলছেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ পাঁচ বছরের জন্য তাঁদের ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। সরকারের কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো কাজের দুর্বলতা, ত্রুটি, দুর্নীতি বা চুরি থাকলে সমালোচনা করা উচিত। কিন্তু কোনো কথা, বার্তা বা কর্মসূচি ছাড়াই সাত মাসের মাথায় সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে—এমন দাবি করা হচ্ছে।

জুলাই আন্দোলন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগে ব্যর্থ ছিল এবং ন্যায্য দাবি আদায়েও ব্যর্থ হয়েছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের আন্দোলন হয় এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এমন একটি নির্বাচিত সরকারকে দেশের মানুষ পাঁচ বছরের জন্য ভোট দিয়েছে। অথচ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচি না থাকলেও বিরোধী দল কখনো আট দফা, কখনো ১২ দফা এবং কখনো এক দফার কথা বলছে।

সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আজকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যে উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো করছি, সেগুলোকে তারা বিশেষ করে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ষড়যন্ত্র করছেন।’

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের ভাতা, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষা-দীক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে যুক্ত করা, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং খাল কাটা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার কাজ করছে। এসবের পরও সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে লাভ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

খাল খনন ও পানির স্তর প্রসঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে বলতে পারেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে খাল কাটা কর্মসূচি নিয়েছিলেন। এরপর আর কোনো সরকার বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে খাল কাটা বা পানি সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেনি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে ভূমি মরুভূমি থেকে রক্ষা করতে খাল কাটা ও পানি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই চিন্তা করেছেন।

পঞ্চগড়ের পানির স্তর প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, একসময় পঞ্চগড়ে ২৫ থেকে ৩০ ফিট খনন করার পর টিউবওয়েল ও ডিপ টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যেত। এখন ২০০ মিটার, ২৫০ মিটার পর্যন্ত খোঁড়ার পরও পানি পাওয়া যায় না। পানির স্তর কেন নেমে গেল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এইটাই কিন্তু তারেক রহমান, উনি চিন্তা করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সায়েন্টিফিকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন যে, আজকে যদি পানির স্তরকে আমি ধরে রাখতে পারি, তাহলেই আমাদের এই অঞ্চলগুলো আজকে মরুভূমি থেকে রক্ষা পেতে পারে।’

বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাঁদের সঙ্গে আছে এবং পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট দিয়েছে। পাঁচ বছর পর তাঁদের কর্মকাণ্ড দেখে জনগণ বিচার-বিশ্লেষণ করবে তাঁদের আবার ভোট দেওয়া উচিত কি না। সে সময় জনগণই ঠিক করবে আগামীতে কে সরকার গঠন করবে।

বিরোধী দলকে সেই সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের কোনো কর্মকাণ্ড বা কর্মসূচিতে ভুলত্রুটি থাকলে তা সংসদে আলোচনা করা এবং সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত