ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির আলোচনায় চার জ্যেষ্ঠ নেতা

২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৬:০৫:৪২

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির আলোচনায় চার জ্যেষ্ঠ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলে চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, দলের প্রতি আনুগত্য এবং সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতার কারণে তাঁদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।

আলোচনায় থাকা অপর তিন নেতা হলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খান এবং স্পিকার ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। বিএনপিতে এই চারজনই পোড় খাওয়া নেতা হিসেবে সমাদৃত। তাঁদের প্রত্যেকেরই রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মির্জা ফখরুল, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজ নিজ গুণে দেশবাসীর কাছে পরিচিত। শুধু দলের গণ্ডির মধ্যেই নয়, বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ব্যক্তিত্ব, সদাচার, মার্জিত আচরণ, অহিংস ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অগ্রসেনানী এবং দেশপ্রেমিক হিসেবে তাঁদের আলাদা কদর রয়েছে।

বিএনপির পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতে কার কী অবদান, তা নিয়েও চলছে মূল্যায়ন। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এসব মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়েই রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়ন ঠিক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান। ফলে সবার নজর এখন তাঁর দিকে। গত ১ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতির নাম চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাজনীতির পাশাপাশি ভূতত্ত্ববিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক হিসেবেও পরিচিত। ১৯৭৯ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলটির প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার সংসদ সদস্য এবং তিনবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৯৪ সাল থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দল পুনর্গঠন ও সংকটের সময়ে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। প্রবীণ এই নেতা সংকটকালে কখনো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এবং ওয়ান-ইলেভেনসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন। হাসিনা সরকারের সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা হয়।

রাজনীতির বাইরেও তাঁর রয়েছে সমৃদ্ধ একাডেমিক জীবন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৭০ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে আরেকটি ডিগ্রি নেন। ১৯৭৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূতত্ত্বে পিএইচডি এবং ১৯৭৪ সালে ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে জুনিয়র লেকচারার হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পরে সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হন তিনি। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে তিনি প্রবাসীদের সংগঠিত করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবেও নেতৃত্ব দেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

ফের দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: একদিনের ব্যবধানেই দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪... বিস্তারিত