×

ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বাণিজ্য ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৮:৪৩:১৯

বাণিজ্য ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া সহজ করা, লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাণিজ্য ব্যয় কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য চালান খালাসে সময় ও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি।

সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে জানানো হয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে ৪৭টি ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-এ’র ২১টি এবং ক্যাটাগরি-বি’র ১৮টি বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের তথ্য ডব্লিউটিওকে জানানো হয়েছে। ক্যাটাগরি-সি’র ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে আটটি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাতটি ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাণিজ্যসংক্রান্ত সনদ, লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন এবং সেবাকে একই প্ল্যাটফর্মে আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো চালু করেছে। এ ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত ১৯টি সংস্থা যুক্ত হয়েছে। আরও ১৮টি দপ্তরকে এর আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো কমিশনারেট গঠনের কাজও চলমান রয়েছে।

সভায় এনবিআরের সদস্য ড. আল আমিন প্রামাণিক জানান, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা এআরএমএসের কার্যক্রম আগামী অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক এ ব্যবস্থা চালু হলে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে অথোরাইজড ইকোনমিক অপারেটর সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কাস্টমস সেবার আওতায় পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর আগেই খালাস প্রক্রিয়া শুরুর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। অনলাইন অটো-ম্যানিফেস্ট রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থাও কার্যকর করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শুল্ক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের জন্য চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল ইনকোয়ারি পয়েন্ট।

সভায় পচনশীল কৃষিপণ্য রপ্তানির অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে কোল্ড স্টোরেজ আধুনিকায়নের কাজ চলছে। বেনাপোলে নতুন কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের দরপত্র মূল্যায়ন শেষ হয়েছে। মোংলায় ১৮ একর জমিতে কোল্ড স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের চুক্তি হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের দেওয়ানহাটে রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্যের জন্য প্যাকিং হাউস ও কোল্ড চেইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সব কার্যক্রম এককভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতা নিয়ে অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার চেষ্টা চলছে।

ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রবণতা কমাতে অভিন্ন কার্যপদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা এবং পরীক্ষাগার সুবিধা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভাটি পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত