ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইসলামের দৃষ্টিতে বয়স্ক বাবা-মায়ের যত্ন: যেভাবে পালন করবেন দায়িত্ব

২০২৬ আগস্ট ০৬ ১২:০৮:৩৫

ইসলামের দৃষ্টিতে বয়স্ক বাবা-মায়ের যত্ন: যেভাবে পালন করবেন দায়িত্ব

ডুয়া ডেস্ক: বয়স মানুষের জীবনের দীর্ঘ পথচলার সাক্ষ্য বহন করে। সময়ের সঙ্গে যেমন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বাড়ে, তেমনি ধীরে ধীরে কমতে থাকে শারীরিক সক্ষমতা। একসময় বার্ধক্যের কারণে দৈনন্দিন অনেক কাজেই অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হয়। ইসলামে এই সময়ে বাবা-মায়ের সেবাকে শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, বরং ইবাদত এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও যত্নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সূরা আল-ইসরায় আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আপনার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সৎব্যবহার করো। তাদের একজন বা উভয়ই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদেরকে ‘উফ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিয়ো না, বরং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো।”

এই আয়াতে আল্লাহর ইবাদতের পরই বাবা-মায়ের প্রতি দয়া ও সদাচরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-ও প্রবীণদের সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রবীণদের প্রতি তাঁর আচরণ ছিল অনুসরণীয়।

১. শারীরিক, মানসিক ও আবেগীয় সহায়তা

বয়স্ক বাবা-মায়ের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকাদান এবং পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি হাঁটাচলার জন্য সহায়ক সামগ্রী ব্যবহার এবং বাথরুমে পিছলে পড়া রোধে ম্যাট বা রেইলিং স্থাপনের মতো ব্যবস্থা তাদের নিরাপত্তা বাড়াতে পারে।

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশে ভুগছেন। এ ঝুঁকি কমাতে বই পড়া, ধাঁধা সমাধান বা স্থানীয় মসজিদে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত রাখার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

অনেক প্রবীণ শারীরিক বা মানসিক কারণে নিজেকে গুটিয়ে নেন। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের উচিত নিয়মিত তাদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং অর্থবহ আলোচনায় যুক্ত রাখা, যাতে তারা নিজেদের মূল্যবান মনে করেন।

২. ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সহায়তা

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের আধ্যাত্মিক চর্চার প্রবণতাও বাড়ে। ধর্মীয় অনুশীলন তাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয় এবং মানসিক শক্তি জোগায়।

বাড়িতে জামাতে নামাজের ব্যবস্থা করা, কোরআন তিলাওয়াতের পরিবেশ তৈরি করা, ইসলামী বই, আলোচনা বা ভিডিও দেখার সুযোগ করে দেওয়া এবং মসজিদের সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত করা তাদের আধ্যাত্মিক ও পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে পারে।

৩. আর্থিক দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া

বাবা-মায়ের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা সন্তানদের যৌথ দায়িত্ব। একাধিক ভাইবোন থাকলে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে আর্থিক দায়িত্ব সুষমভাবে ভাগ করে নেওয়া উচিত। এতে দীর্ঘমেয়াদে সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “বাবা-মায়ের সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং বাবা-মায়ের অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত।”

৪. সমসাময়িক বিষয়ে সচেতনতা ও নিরাপত্তা

বর্তমান সময়ে প্রবীণরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতারণা বা স্ক্যামের শিকার হতে পারেন। তাই তাদের এসব প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার শেখানোও গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেট ও অনলাইন সেবার সঠিক ব্যবহার জানতে পারলে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন এবং বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণা থেকেও নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)

আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বাজারে আজকের স্বর্ণ ও রুপার দাম প্রকাশ করা হয়েছে। ক্যারেটভেদে স্বর্ণ ও রুপার দামে পার্থক্য রয়েছে। আজকের স্বর্ণের... বিস্তারিত