ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
হাঁটতে গেলেই শ্বাসকষ্ট? হতে পারে হৃদরোগের লক্ষণ
ডুয়া ডেস্ক: সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, দ্রুত হাঁটা কিংবা সামান্য পরিশ্রমেই অনেকের শ্বাসকষ্ট হয় বা হাঁপ ধরে যায়। বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন কিংবা শরীরচর্চার অভাবের কারণে এমনটি হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ক্ষেত্রে বিষয়টি স্বাভাবিক নয়; অনেক সময় এটি হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, রক্তাল্পতা কিংবা থাইরয়েডের সমস্যার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে যে কাজ সহজে করা যেত, এখন সেই একই কাজ করতে গিয়ে যদি হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বা সময়ের সঙ্গে সমস্যা বাড়তে থাকে, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টই হৃদরোগের প্রথম লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে, এমনকি বুকে ব্যথা শুরু হওয়ার আগেও।
চিকিৎসকদের মতে, যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা রয়েছে বা যারা ধূমপান করেন, তাদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি যদি বুকে চাপ, মাথা ঘোরা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত ঘাম বা পা ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কীভাবে বোঝা যাবে কারণ?
শুধু উপসর্গ দেখে শ্বাসকষ্টের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। এটি হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, রক্তাল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, কিডনি জটিলতা, স্থূলতা কিংবা মানসিক চাপের কারণেও হতে পারে। তাই রোগীর স্বাস্থ্য ইতিহাস পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি।
প্রাথমিকভাবে রক্তচাপ পরিমাপ, ইসিজি, বুকের এক্স-রে এবং রক্ত পরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরীক্ষার মধ্যে হিমোগ্লোবিন, ব্লাড সুগার, থাইরয়েড, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে। হৃদরোগের সন্দেহ হলে ইকোকার্ডিওগ্রাফি, ট্রেডমিল স্ট্রেস টেস্ট বা সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফির মতো পরীক্ষাও প্রয়োজন হতে পারে। ফুসফুসের কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্যও বিশেষ পরীক্ষা করা হয়।
ইকোকার্ডিওগ্রাফির মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে হৃদযন্ত্রের গঠন ও ভাল্ভ পরীক্ষা করা হয়। ট্রেডমিল টেস্টে হাঁটার সময় হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়। আর করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রামে দেখা হয় হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীগুলোতে কোনো বাধা রয়েছে কি না।
দ্রুত রোগ শনাক্ত করা কেন জরুরি
চিকিৎসকদের মতে, বিশ্রামের পরও যদি শ্বাসকষ্ট না কমে বা হঠাৎ সমস্যা বেড়ে যায়, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে হৃদরোগ, হার্ট ফেলিওরসহ বিভিন্ন জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
মুম্বাইয়ের নিউবার্গ অজয় শাহ ল্যাবরেটরির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. অজয় শাহ বলেন, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই রোগীর বিস্তারিত স্বাস্থ্য ইতিহাস মূল্যায়ন করা হয়। শ্বাসকষ্টের ধরন, স্থায়িত্ব, তীব্রতা, বুকে ব্যথা, হৃদস্পন্দন, কাশি, শ্বাসের সময় শিসের শব্দ, দুর্বলতা কিংবা পা ফোলার মতো লক্ষণও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
তিনি জানান, সিবিসি (CBC) পরীক্ষা রক্তাল্পতা বা সংক্রমণ শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ব্লাড সুগার, লিভার, কিডনি, থাইরয়েড এবং প্রদাহজনিত পরীক্ষাও প্রয়োজন হতে পারে। হৃদরোগের সন্দেহ হলে কার্ডিয়াক বায়োমার্কার পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে ও ইসিজিও করা হয়।
হৃদরোগের ঝুঁকি কতটা?
পুণের বানেরের মণিপাল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. অভিজিৎ যোশী বলেন, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথার আগেই শ্বাসকষ্ট হৃদরোগের প্রথম লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
তার ভাষায়, সব হৃদরোগেই যে বুকে ব্যথা হবে, এমন নয়। অনেক সময় শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা কিংবা দুর্বলতাই প্রধান লক্ষণ হয়ে ওঠে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ ছাড়াই হৃদরোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
তিনি আরও বলেন, হৃদযন্ত্রের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, পা ফোলা এবং ফুসফুসে পানি জমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য পরিশ্রমেই যদি শ্বাসকষ্ট হয়, সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে, বিশ্রামের পরও না কমে বা এর সঙ্গে বুকে চাপ, ব্যথা, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়া কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
মুম্বাইয়ের গ্লেনেগলস হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাহুল গুপ্তা বলেন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল হৃদরোগের বড় ঝুঁকির কারণ। এসব সমস্যা থাকলে শ্বাসকষ্টকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, আগে যে কাজ সহজে করা যেত, এখন সেটি করতে কষ্ট হলে বা শ্বাসকষ্ট অনুভূত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেলিওরের মতো জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
ডা. গুপ্তার মতে, কোনো ব্যক্তি যদি চরম ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট ছাড়াই প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজ করতে পারেন, যেমন এক থেকে দুই তলা সিঁড়ি ভাঙতে পারেন বা প্রায় আধঘণ্টা দ্রুত হাঁটতে পারেন, তাহলে তা শরীরের ভালো কার্যক্ষমতার একটি ইঙ্গিত হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, স্মার্টওয়াচ বা নিজস্ব পর্যবেক্ষণ কখনোই চিকিৎসকের মূল্যায়নের বিকল্প নয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্ট থাকলে বা উপসর্গ বাড়তে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত