ঢাকা, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

আজানের সময় কথা বলা কি গুনাহ?

২০২৬ জুলাই ৩১ ১১:৫৪:৫০

আজানের সময় কথা বলা কি গুনাহ?

ডুয়া ডেস্ক: আজানের সময় কথা বলা নিয়ে সমাজে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কেউ এটিকে গুনাহ মনে করেন, আবার কেউ দাবি করেন এতে বহু বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। তবে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে, তা জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামে আজান হলো নামাজের আহ্বান। আজানের ধ্বনি শোনার পর একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহর স্মরণে সাড়া দিয়ে সালাতের প্রস্তুতি নেওয়া। কুরআন ও সহিহ হাদিসে আজানের গুরুত্ব এবং এর জবাব দেওয়ার প্রতি বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও অনুরূপ বলো।’ (সহিহ বুখারি: ৬১১, সহিহ মুসলিম: ৩৮৩)। এ হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, আজানের জবাব দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

তবে কুরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কোনো বর্ণনা নেই, যেখানে বলা হয়েছে যে আজানের সময় কথা বলা গুনাহ। তাই শুধু এ কারণে কাউকে গুনাহগার বলা সঠিক নয়। তবে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করে আজান মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তার জবাব দেওয়া উত্তম ও সুন্নত আমল। কেউ বিনা কারণে তা থেকে বিরত থাকলে তিনি সুন্নতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও রাসুল যখন তোমাদের এমন বিষয়ে আহ্বান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে, তখন তোমরা সেই আহ্বানে সাড়া দাও।’ (সুরা আল-আনফাল: ২৪)। এ আয়াতের আলোকে আজানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সালাতের প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।

আজান শেষ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) শেখানো দোয়া পড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। একই সঙ্গে দরুদ পাঠেরও ফজিলত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, জরুরি ফোনকল বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন দেখা দিলে প্রয়োজনীয় কথা বলা বা কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইসলাম মানুষের ওপর অযথা কঠোরতা আরোপ করে না।

সমাজে প্রচলিত ‘আজানের সময় কথা বললে ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়’ বা ‘আজানের জবাব না দিলে ঈমান নিয়ে মৃত্যু হবে না’ এ ধরনের বক্তব্যের পক্ষে কুরআন বা সহিহ হাদিসে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই। তাই ধর্মীয় বিষয়ে ভিত্তিহীন প্রচারণা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।

সব মিলিয়ে, আজানের সময় কথা বলা গুনাহ এমন প্রমাণ নেই। তবে আজানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, মনোযোগ দিয়ে শোনা, মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়া এবং যথাসময়ে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়াই একজন মুসলিমের জন্য উত্তম ও সুন্নতসম্মত আমল।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম

দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার গহনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পিওর) সোনার মূল্য বৃদ্ধির কারণে ২২ ক্যারেট সোনার... বিস্তারিত