ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
আজানের সময় কথা বলা কি গুনাহ?
ডুয়া ডেস্ক: আজানের সময় কথা বলা নিয়ে সমাজে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কেউ এটিকে গুনাহ মনে করেন, আবার কেউ দাবি করেন এতে বহু বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। তবে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে, তা জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামে আজান হলো নামাজের আহ্বান। আজানের ধ্বনি শোনার পর একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহর স্মরণে সাড়া দিয়ে সালাতের প্রস্তুতি নেওয়া। কুরআন ও সহিহ হাদিসে আজানের গুরুত্ব এবং এর জবাব দেওয়ার প্রতি বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও অনুরূপ বলো।’ (সহিহ বুখারি: ৬১১, সহিহ মুসলিম: ৩৮৩)। এ হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, আজানের জবাব দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
তবে কুরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কোনো বর্ণনা নেই, যেখানে বলা হয়েছে যে আজানের সময় কথা বলা গুনাহ। তাই শুধু এ কারণে কাউকে গুনাহগার বলা সঠিক নয়। তবে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করে আজান মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তার জবাব দেওয়া উত্তম ও সুন্নত আমল। কেউ বিনা কারণে তা থেকে বিরত থাকলে তিনি সুন্নতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও রাসুল যখন তোমাদের এমন বিষয়ে আহ্বান করেন যা তোমাদের জীবন দান করে, তখন তোমরা সেই আহ্বানে সাড়া দাও।’ (সুরা আল-আনফাল: ২৪)। এ আয়াতের আলোকে আজানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সালাতের প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
আজান শেষ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) শেখানো দোয়া পড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। একই সঙ্গে দরুদ পাঠেরও ফজিলত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, জরুরি ফোনকল বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন দেখা দিলে প্রয়োজনীয় কথা বলা বা কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইসলাম মানুষের ওপর অযথা কঠোরতা আরোপ করে না।
সমাজে প্রচলিত ‘আজানের সময় কথা বললে ৪০ বছরের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়’ বা ‘আজানের জবাব না দিলে ঈমান নিয়ে মৃত্যু হবে না’ এ ধরনের বক্তব্যের পক্ষে কুরআন বা সহিহ হাদিসে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই। তাই ধর্মীয় বিষয়ে ভিত্তিহীন প্রচারণা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।
সব মিলিয়ে, আজানের সময় কথা বলা গুনাহ এমন প্রমাণ নেই। তবে আজানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, মনোযোগ দিয়ে শোনা, মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়া এবং যথাসময়ে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়াই একজন মুসলিমের জন্য উত্তম ও সুন্নতসম্মত আমল।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার আর নেই
- বিমান বাহিনীতে ৪৫ ক্যাটাগরিতে ৩৪২ শূন্যপদে চাকরির সুযোগ
- ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, ৫৮ জন শনাক্ত
- শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দেবে এসএসসি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, আবেদন করবেন যেভাবে
- বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার
- পরীক্ষা ছাড়া একাদশে ভর্তি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪৭ পদে নিয়োগ
- মালয়েশিয়ায় এসডিজি ইনোভেশন সামিটে পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির সুযোগ
- এ টি এম আবদুল বারী ড্যানীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের অভিনন্দন
- বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী
- বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন অনলাইনে
- রঞ্জন কর্মকারের মৃ'ত্যুতে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শোক প্রকাশ
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী হয়েছিল, জানা গেল রহস্যময় তথ্য
- যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফেরেননি, ঢাবি অধ্যাপককে অব্যাহতি