×

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

জুমার দিনের বিশেষ আমল ও সুন্নতগুলো কী কী, জেনে নিন 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ ০৯:৫২:০৪

জুমার দিনের বিশেষ আমল ও সুন্নতগুলো কী কী, জেনে নিন 

ডুয়া ডেস্ক: ইসলামে জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। কুরআন-হাদিসে এ দিনের ফজিলত ও বিশেষ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকের কাছে জুমার দিন শুধু গোসল ও দু’রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও আমলের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেসব আমলের কয়েকটি তুলে ধরা হলো—

১. ফজরের নামাজে বিশেষ দুটি সুরা তেলাওয়াত

জুমার দিনের ফজরের নামাজে দুটি বিশেষ সুরা তেলাওয়াত করা সুন্নত। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত—

أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي فَجْرِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ الم تَنْزِيلُ (السَّجْدَةَ) وَهَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনে ফজরের নামাজে ‘সুরা আস-সাজদা’ এবং ‘সুরা আল-ইনসান’ তেলাওয়াত করতেন।’ (আবু দাউদ ১০৭৪)

২. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া

খুতবা শুরুর ঠিক আগে মসজিদে পৌঁছানো অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ জুমার দিন যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, তত বেশি সওয়াবের কথা হাদিসে এসেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَن اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً...

‘জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো, যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি, যে একটি গাভী কুরবানি করে। অতঃপর মেষ কুরবানি করার ন্যায়। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। এরপর ইমাম যখন বের হন, তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন।’ (বুখারি ৯২৯)

৩. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া

যানবাহনের সহজলভ্যতায় পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস কমে গেছে। তবে সুযোগ থাকলে পায়ে হেঁটে জুমার নামাজে যাওয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হজরত আউস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন—

مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ...

‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে পায়ে হেঁটে মসজিদে আসবে, ইমামের কাছাকাছি বসবে, এরপর মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে এবং খুতবার সময় কোনো অনর্থক কথা বলবে না, সে মসজিদে আসার প্রতি কদমে এক বছর রোজা ও এক বছর রাতের ইবাদতের সওয়াব পাবে।’ (আবু দাউদ ৩৪৫)

৪. মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার

সাবান বা টুথপেস্ট ব্যবহারের পাশাপাশি মিসওয়াক করাও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَسِسَاكٌ وَيَمَسُّ مِنْ الطِّيبِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ

‘জুমার দিন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গোসল ও মিসওয়াক করা কর্তব্য এবং সামর্থ্য থাকলে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার করে।’ (মুসলিম ৮৪৬)

৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা

জুমার দিনে প্রিয়নবি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করাও বিশেষ আমল। হজরত আউস ইবনে আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ... فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ

‘জুমার দিন তোমরা আমার ওপর বেশি করে দরুদ পড়ো। কারণ, তোমাদের দরুদগুলো আমার কাছে পেশ করা হয়।’ সাহাবিরা জানতে চাইলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের দরুদ কীভাবে আপনার কাছে উপস্থাপন করা হবে, অথচ আপনার দেহ তো মাটির সঙ্গে মিশে যাবে?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা নবীদের দেহ ভক্ষণ করা মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন।’ (আবু দাউদ ১০৪৭)

৬. সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা

জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنَ النُّورِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ

‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত হয়ে থাকবে।’ (বাইহাকি ৫৭৯৩)

৭. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নীরব থাকা

খুতবার সময় নীরব থাকা জরুরি। এমনকি পাশের কাউকে চুপ করতে বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ وَالْامامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ

‘জুমার দিন ইমাম যখন খুতবা দেবেন, তখন তুমি যদি তোমার পাশের সঙ্গীকে বলো, ‘চুপ করো’, তবে তুমি একটি অনর্থক বা লঘু কাজ করলে।’ (বুখারি ৯৩৪)

তাই খুতবার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, ফিসফিস করে কথা বলা কিংবা অমনোযোগী থাকাও এ আদবের পরিপন্থি।

৮. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত অনুসন্ধান করা

জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তা কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

ذَكَرَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ فِيهِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ

‘জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোনো মুসলিম বান্দা যদি সেই সময়ে নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দান করেন।’ (বুখারি ৯৩৫)

ইসলামিক স্কলারদের মতে, এ মুহূর্তটি প্রধানত আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিহিত থাকে।

জুমার দিন তাই শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়; এটি ইবাদত, জিকির, তাওবা ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ সুযোগ। হাদিসে বর্ণিত এসব আমল পালনের মাধ্যমে মুসলমানরা জুমার দিনের ফজিলত ও বরকত লাভের পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণের সুযোগ পান। আল্লাহ তাআলা সবাইকে এসব আমলের ওপর যথাযথভাবে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত