×

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

জুমার নামাজে ক্ষমার প্রতিশ্রুতি

২০২৬ অক্টোবর ৩০ ১১:৫১:৫৮

জুমার নামাজে ক্ষমার প্রতিশ্রুতি

ডুয়া ডেস্ক: জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো একাগ্রতার সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা। এর জন্য পাক-পবিত্র হয়ে পরিষ্কার ও উত্তম পোশাক পরে ওয়াক্তের শুরুতেই মসজিদে যেতে হয়। সেখানে নামাজ, দোয়া ও জিকিরে মগ্ন থাকা, মনোযোগ দিয়ে ইমামের খুতবা শোনা এবং যথাযথভাবে জুমার নামাজ আদায় করাই এই দিনের সর্বাধিক ফজিলতের আমল। হাদিস শরিফে এ আমলের বহু ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।

১. এক সপ্তাহের গুনাহ মাফ

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الْجُمْعَةُ إِلَى الْجُمْعَةِ، كَفّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنّ، مَا لَمْ تُغْشَ الْكَبَائِرُ

‘এক জুমা থেকে আরেক জুমা মধ্যবর্তী সময়ের (গুনাহের) জন্য কাফ্ফারা (পাপমোচনকারী), যদি কাবীরা গুনাহ না করা হয়।’ (মুসলিম ২৩৩, ইবনে মাজাহ ১০৮৬, তিরমিজি ৪১৪, ইবনে খুযায়মা ১৮১৪)

হজরত সালমান ফারসি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

تَدْرُونَ مَا يَوْمُ الْجُمُعَةِ؟ ... لَكِنِّي أُخْبِرُكَ بِخَبَرِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ، مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَطَهّرُ ثُمّ يَمْشِي إِلَى الْمَسْجِدِ، ثُمّ يُنْصِتُ، حَتّى يَقْضِيَ الْإِمَامُ صَلَاتَهُ، إِلّا كَانَتْ كَفّارَةَ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ يَوْمِ الْجُمُعَةِ الّتِي قَبْلَهَا، مَا اجْتُنِبَتِ الْمَقْتَلَةُ

‘...বাকি আমি তোমাকে জুমার দিনের আসল ফজিলত সম্পর্কে অবগত করছি— কোনো মুসলিম যদি পবিত্র হয়ে জামে মসজিদের দিকে হাঁটতে থাকে, এরপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে এ নামাজ এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহসমূহের কাফ্ফারা (মোচনকারী) হয়ে যাবে, যদি ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।’ (শরহু মুশকিলিল আছার ৩৮২৮, ইবনে খুযায়মা ১৭৩২, মুসনাদে আহমাদ ২৩৭২৯, নাসাঈ ১৬৭৭, মুস্তাদরাকে হাকেম ১০২৮)

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) ও হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ ثِيَابِهِ، وَمَسّ مِنْ طِيبٍ إِنْ كَانَ عِنْدَهُ، ثُمّ أَتَى الْجُمُعَةَ، فَلَمْ يَتَخَطّ أَعْنَاقَ النّاسِ، ثُمّ صَلّى مَا كَتَبَ اللهُ لَهُ، ثُمّ أَنْصَتَ إِذَا خَرَجَ إِمَامُهُ، حَتّى يَفْرُغَ مِنْ صَلَاتِهِ، كَانَتْ كَفّارَةً لِمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ جُمُعَتِهِ الّتِي قَبْلَهَا

‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, তার কাছে থাকা সুন্দরতম জামাটি পরিধান করল এবং সংগ্রহে থাকলে সুগন্ধি ব্যবহার করল, এরপর জুমাতে উপস্থিত হল, কারো কাঁধ ডিঙ্গিয়ে গেল না, তারপর আল্লাহর তৌফিক অনুযায়ী সুন্নত-নফল পড়ল, অতঃপর খতীব (খুতবার জন্য) বের হওয়া থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নিশ্চুপ থাকল, তার এই নামাজ এ জুমা থেকে সামনের জুমা পর্যন্ত (গুনাহের) কাফ্ফারা হবে।’ (আবু দাউদ ৩৪৩, মুসনাদে আহমাদ ১১৭৬৮, ইবনে হিব্বান ২৭৭৮, ইবনে খুযায়মা ১৭৬২, মুস্তাদরাকে হাকেম ১০৪৬৫)

হজরত সালমান আল খায়ের (সালমান ফারসি) (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন—

لاَ يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الجُمُعَةِ، وَيَتَطَهّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ، وَيَدّهِنُ مِنْ دُهْنِهِ، أَوْ يَمَسّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ، ثُمّ يَخْرُجُ فَلاَ يُفَرِّقُ بَيْنَ اثْنَيْنِ، ثُمّ يُصَلِّي مَا كُتِبَ لَهُ، ثُمّ يُنْصِتُ إِذَا تَكَلّمَ الإِمَامُ، إِلّا غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الجُمُعَةِ الأُخْرَى

‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করবে, সাধ্যমত পরিচ্ছন্নতা অর্জন করবে, তেল ব্যবহার করবে বা নিজের ঘরে থাকা আতর মাখবে, এরপর জুমার দিকে বের হবে, (মসজিদে গিয়ে একসঙ্গে থাকা) দুইজনের মাঝে গিয়ে বসবে না, যত রাকাত সম্ভব নামাজ পড়বে, এরপর ইমাম যখন খুতবা দেন তখন চুপ থাকবে— যে কেউই এসব করবে তাকেই এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত মাফ করা হবে।’ (বুখারি ৮৮৩, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ৫৫৬৩২)

২. দশ দিনের গুনাহ মাফ

আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমত ও ক্ষমার পরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। রাসুলের মুখে তিনি ঘোষণা করিয়েছেন, জুমার নামাজের বদৌলতে অতিরিক্ত আরও তিন দিনসহ মোট দশ দিনের গুনাহ ক্ষমা করা হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন—

إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فَاغْتَسَلَ الرّجُلُ، وَغَسَلَ رَأْسَهُ، ثُمّ تَطَيّبَ مِنْ أَطْيَبِ طِيبِهِ، وَلَبِسَ مِنْ صَالِحِ ثِيَابِهِ، ثُمّ خَرَجَ إِلَى الصّلَاةِ، وَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ، ثُمّ اسْتَمَعَ لِلْإِمَامِ، غُفِرَ لَهُ مِنَ الْجُمُعَةِ إِلَى الْجُمُعَةِ، وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيّامٍ

‘জুমার দিন যে ব্যক্তি মাথা ধুয়ে গোসল করে, এরপর উত্তম আতর ব্যবহার করে এবং তার জামাগুলো থেকে ভালো জামাটি পরিধান করে, তারপর নামাজের উদ্দেশে বের হয়, (মসজিদে গিয়ে একসঙ্গে থাকা) দুইজনের মাঝে গিয়ে বসে না, অতপর মনোযোগের সঙ্গে ইমামের খুতবা শোনে, ঐ ব্যক্তির এক জুমা থেকে আরেক জুমা এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ (ইবনে খুযায়মা ১৪০৩)

আরেক বর্ণনায় হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন—

مَنْ تَوَضّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمّ أَتَى الْجُمُعَةَ، فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ، غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ، وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيّامٍ، وَمَنْ مَسّ الْحَصَى فَقَدْ لَغَا

‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করবে, এরপর জুমায় উপস্থিত হবে, তারপর মনোযোগ দিয়ে (খুতবা) শুনবে এবং চুপ থাকবে, তার দুই জুমার মধ্যবর্তী দিনগুলো এবং আরও তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। আর যে কঙ্কর স্পর্শ করল সে অনর্থক কাজ করল।’ (মুসলিম ৮৫৭, আবু দাউদ ১০৫০, মুসনাদে আহমাদ ৯৪৮৪, ইবনে হিব্বান ১২৩১)

উল্লিখিত হাদিসগুলো থেকে জুমার দিনের বিশেষ আমলগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এগুলো হলো উত্তমরূপে গোসল করা, সবচেয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা, সাধ্যমতো সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা এবং একাগ্রচিত্তে খুতবা শোনা। এ ছাড়া মসজিদে কাউকে কষ্ট না দেওয়া, সামনে যাওয়ার জন্য কারও কাঁধ ডিঙিয়ে না যাওয়া, খুতবা চলাকালে কথা না বলা এবং কঙ্কর স্পর্শসহ কোনো অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকাও এর অন্তর্ভুক্ত। যিনি এভাবে জুমার নামাজ আদায় করবেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর এক সপ্তাহের, বরং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে যথাযথ আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে কত?

ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম... বিস্তারিত