ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
জুমার খুতবার সময় কথা বলা ও দরুদ পড়ার বিধান কী
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুমার দিন মুসলিম উম্মাহর কাছে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ ও বরকতময় দিন হিসেবে বিবেচিত। এদিন জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজের আগে খুতবা শোনা গুরুত্বপূর্ণ ও ওয়াজিব ইবাদত। তবে অসচেতনতার কারণে অনেক সময় খুতবার আদব ও শিষ্টাচার লঙ্ঘিত হয়। খুতবা চলাকালে কথা বলা, গল্প করা, এমনকি উচ্চস্বরে দরুদ পাঠ বা তাকবির বলার মতো ঘটনাও বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায়। অথচ শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, এ সময় নীরব থেকে মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালে কথা বলা এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ের শরয়ি বিধান তুলে ধরা হলো।
খুতবার সময় কথা বলা ও অন্যান্য ভুলের শরয়ি বিধান
বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায়, ইমাম জুমার খুতবা দেওয়ার সময় অনেক মুসল্লি নিজেদের মধ্যে গল্প বা কথাবার্তায় ব্যস্ত থাকেন। কেউ কেউ এ সময় উচ্চস্বরে দরুদ পাঠ করেন। আবার কিছু এলাকায় ঈদের নামাজের খুতবায় ইমাম তাকবিরে তাশরিক বলার সময় মুসল্লিরাও একসঙ্গে উচ্চস্বরে তাঁর সঙ্গে তাকবির বলতে থাকেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে এসব কাজ নিষিদ্ধ এবং এতে ইবাদতের সওয়াব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জুমা ও ঈদের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালে কথা বলা, কোনো কাজে ব্যস্ত থাকা কিংবা তাসবিহ-তাহলিল পাঠ করাও জায়েজ নয়। এ বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কবাণী এসেছে।
খুতবার সময় নীরবতা বজায় রাখার গুরুত্ব
খুতবা চলাকালে নীরবতা বজায় রাখার বিষয়ে হাদিসে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।
অনর্থক কথা বলার পরিণতি
হজরত আবু যার (রা.) বলেন, ‘একদিন নবী করীম (সা.) খুতবায় সুরা বারাআত পাঠ করলেন। তখন আমি উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এ সূরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে? আমার প্রশ্ন শুনে তিনি চেহারা মলিন করলেন এবং চুপ থাকলেন। এভাবে পরপর তিনবার প্রশ্ন করার পরও তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে বারবার প্রশ্ন করার পরও কোনো উত্তর দিলেন না কেন? তখন উবাই (রা.) বললেন, (খুতবা চলাকালে প্রশ্ন করার কারণে) আপনি জুমার কোনো সওয়াব পাননি। আপনার অনর্থক কথা বলা হয়েছে। তখন আমি নবী করীম (সা.)-এর কাছে গিয়ে উবাই (রা.)-এর এ কথা জানালাম। জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, উবাই ঠিকই বলেছে।’ (ইবনে খুযাইমা ১৮০৭)
পাশের ব্যক্তিকে কথা বলতে নিষেধ করাও নিষেধ
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন—
مَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخطُبُ فَقَدْ لَغَا
‘তুমি যদি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় পাশের ব্যক্তিকে চুপ করতেও বল, তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে (অর্থাৎ জুমার পুণ্য নষ্ট করলে)।’ (মুসলিম ৮৫১)
হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও যুহরী (রহ.)-এর অভিমত
হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও যুহরী (রহ.) বলেন, ‘ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নামাজ পড়া যাবে না। আর খুতবা শুরু করলে কোনো কথা বলা যাবে না।’
এসব হাদিস ও আসারের আলোকে ফকিহগণ খুতবা চলাকালে মুক্তাদির জন্য যেকোনো ধরনের কথা বলা, ইশারা-ইঙ্গিতে কথা বলা, তাসবিহ পড়া কিংবা উচ্চস্বরে দরুদ ও তাকবির পাঠ করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তাঁদের মতে, খুতবা চলাকালে মুক্তাদির করণীয় হলো পূর্ণ মনোযোগ ও নীরবতার সঙ্গে তা শোনা।
খুতবা জুমার নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর মাধ্যমে আল্লাহর জিকির ও নসিহত শোনার সুযোগ হয়। অসচেতনতা কিংবা অজ্ঞতার কারণে জুমার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই খুতবা শুরু হওয়ার পর থেকে ইমামের সালাম ফেরানো পর্যন্ত সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখা প্রত্যেক মুসল্লির ইমানি দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার খুতবার আদব রক্ষা করার এবং সব ধরনের ভুল ও অনর্থক কথা থেকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুন। আমিন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মাহমুদ আলমের মৃত্যু, উপাচার্যের শোক
- জেনে নিন আজকের বাজারে ২২,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দাম
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- ১৫ দিনের ব্যবধান দুইবার হবে শারদীয় দুর্গাপূজা
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২৬ অক্টোবর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ অক্টোবর)
- ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা: ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
- আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- ‘অনেক শিশুকে চুমু দিয়েছি, আমাকে মারার সাহস আছে?’
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত
- দেশের যেসব অঞ্চলে পাঁচ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ