ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

ফ্রান্স বনাম মরক্কোর ম্যাচ: মোবাইলে দেখবেন যেভাবে

২০২৬ জুলাই ১০ ০১:২৪:৪৪

ফ্রান্স বনাম মরক্কোর ম্যাচ: মোবাইলে দেখবেন যেভাবে

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন পৌঁছে গেছে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই এখন শিরোপার স্বপ্নকে আরও বাস্তব কিংবা ভঙ্গুর করে তুলছে। এমন সময় কোয়ার্টার ফাইনালের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের পরাশক্তি ফ্রান্স এবং আফ্রিকার অন্যতম সফল দল মরক্কো। দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এই লড়াই ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ।

এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধু সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্মৃতিও নতুন করে ফিরিয়ে আনছে এই মুখোমুখি। সেই আসরে মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ করেছিল ফ্রান্স। এবার আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুই দলের সাক্ষাৎ হওয়ায় প্রতিশোধ, গৌরব এবং শেষ চারে ওঠার লড়াই সব মিলিয়ে ম্যাচটি হয়ে উঠেছে এবারের আসরের অন্যতম বড় আকর্ষণ।

বর্তমান ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। অন্যদিকে মরক্কো রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। র‍্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি চলতি বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের দিক থেকেও ফরাসিরা নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে প্রমাণ করেছে। তবে মরক্কোও ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছে তারা কেবল চমক দেখাতে নয়, শিরোপার লড়াইয়েও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে মাঠে নেমেছে।

সাম্প্রতিক পাঁচ ম্যাচে শতভাগ সফল ফ্রান্স। প্রতিটি ম্যাচেই আক্রমণ, রক্ষণ এবং মাঝমাঠে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলেছে তারা। অন্যদিকে মরক্কোও দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে। শেষ পাঁচ ম্যাচে চারটি জয় এবং একটি ড্র করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ফলে আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকেও তারা কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।

অতীতের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান অবশ্য ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলছে। এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে চারটি ম্যাচ জিতেছে ফ্রান্স, মরক্কো জয় পেয়েছে একবার এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মরক্কোর একমাত্র জয়টি এসেছিল ১৯৯৮ সালে টাইব্রেকারে। বিশ্বকাপেও একবার দেখা হয়েছিল দুই দলের। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ভয়ংকর আক্রমণভাগ। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও রায়ান চেরকির মতো তারকাদের নিয়ে গড়া ফরোয়ার্ড লাইন যেকোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপে ফেলতে পারে। দ্রুতগতির আক্রমণ, নিখুঁত গোল করার দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তা ফরাসিদের অন্যতম বড় সম্পদ। মাঝমাঠ ও রক্ষণেও রয়েছে দারুণ ভারসাম্য, যা তাদের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে এগিয়ে রাখছে।

অন্যদিকে মরক্কো এবার আরও আত্মবিশ্বাসী। কোচ মোহাম্মদ ওয়াহাবিয়ার অধীনে দলটি আক্রমণাত্মক এবং পরিকল্পিত ফুটবল খেলছে। সুযোগ তৈরি এবং তা কাজে লাগানোর দক্ষতা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কানাডার বিপক্ষে মাত্র চারটি শট থেকে তিনটি গোল করার ঘটনা সেটিই প্রমাণ করে। অভিজ্ঞ আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে সংগঠিত রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণই হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৬১ শতাংশ। মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ১৬ শতাংশ। আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে ২৩ শতাংশ। তবে নকআউট ফুটবলে পরিসংখ্যান সবসময় শেষ কথা বলে না। মরক্কো ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে, তারা যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে সক্ষম।

কখন ও কোথায় দেখবেন?

বাংলাদেশ সময় ১০ জুলাই দিবাগত রাত ২টায় শুরু হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত কোয়ার্টার ফাইনাল। দেশের দর্শকরা টেলিভিশনে টি স্পোর্টস, বিটিভি ও সময় টিভির মাধ্যমে ম্যাচটি উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া মোবাইল ডিভাইসে স্পোর্টজফাই অ্যাপ থেকেও সরাসরি দেখা যাবে ম্যাচটি।

এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর এই লড়াইয়ে। ফ্রান্স কি আবারও নিজেদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে, নাকি মরক্কো নতুন ইতিহাস লিখে বিশ্বকাপে আরেকটি চমক উপহার দেবে সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াই শেষে।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত