ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়ার হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল এশিয়া

২০২৬ জুলাই ০৪ ১৮:৫২:২৭

অস্ট্রেলিয়ার হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল এশিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক: চলতি ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিতে পারেনি এশিয়ার কোনো দল। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া এশিয়ার অধিকাংশ প্রতিনিধিই বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই। দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে সক্ষম হয়েছিল কেবল জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। তবে নকআউট পর্বে ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নেয় জাপান। আর সর্বশেষ টাইব্রেকারে মিশরের কাছে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার বিদায়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে এশিয়ার শেষ প্রতিনিধির স্বপ্নও শেষ হয়ে যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে এশিয়ার সব দলই বিদায় নিয়েছে।

এশিয়ার এমন পারফরম্যান্স মহাদেশটির ফুটবলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এশিয়ার অংশগ্রহণে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার গল্পই বেশি।

এশিয়ার প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ১৯৬৬ সালে উত্তর কোরিয়ার হাত ধরে। সেবার তারা ইতালিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বিশ্ব ফুটবলে চমক সৃষ্টি করেছিল। ১৯৯৪ সালে সৌদি আরবের সাঈদ আল-ওয়াইরানের অবিস্মরণীয় গোল এখনো বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্জন আসে ২০০২ সালে। জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে দক্ষিণ কোরিয়া সেবার ইতালি ও স্পেনকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। এখনো এটিই বিশ্বকাপে কোনো এশিয়ান দলের সর্বোচ্চ সাফল্য।

জাপান চারবার শেষ ষোলোয় উঠেছে। অস্ট্রেলিয়াও ২০০৬ ও ২০২২ সালে একই কৃতিত্ব দেখিয়েছে। ইরান, সৌদি আরবসহ অন্যান্য দল মাঝেমধ্যে চমক দেখালেও ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এশিয়ার দলগুলোর ভালো ফলের প্রত্যাশা করেন। কিন্তু বাস্তবে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার দলগুলোর আধিপত্যের সামনে এশিয়ার প্রতিনিধিরা বারবার পিছিয়ে পড়ছে। পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, আধুনিক প্রযুক্তির স্বল্প ব্যবহার এবং ইউরোপের শীর্ষ লিগে এশিয়ান ফুটবলারদের সীমিত সুযোগকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপে এশিয়ার এই ব্যর্থতা মহাদেশটির ফুটবল প্রশাসনের সামনে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অধিক বিনিয়োগ, তৃণমূল ও যুব ফুটবলের উন্নয়ন এবং কোচিংয়ের মান বাড়ানো ছাড়া এ ব্যবধান কমানো কঠিন। তবু এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের আশা, একদিন হয়তো কোনো এশিয়ান দল বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেবে। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ জুলাই)


আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণের বাজারে ফের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের ফলে শনিবার থেকে নতুন... বিস্তারিত