ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

কেপ ভার্দে ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুর্বলতা কোথায় ছিল?

২০২৬ জুলাই ০৪ ০৮:২০:১৬

কেপ ভার্দে ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুর্বলতা কোথায় ছিল?

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কাগজে-কলমে সহজ প্রতিপক্ষ মনে হলেও কেপ ভার্দে মাঠে আর্জেন্টিনাকে এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্তি দেয়নি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল। তবে ম্যাচজুড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবলবিশ্বে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যান বলছে, আর্জেন্টিনার এক্সজি (Expected Goals) ছিল ২.১৬, যেখানে কেপ ভার্দের ছিল মাত্র ০.৪৬। অর্থাৎ গোল করার সম্ভাব্য সুযোগ তৈরির দিক থেকে আর্জেন্টিনা অনেক এগিয়ে থাকলেও মাঠের খেলায় সেই আধিপত্যের প্রতিফলন দেখা যায়নি।

১. কেপ ভার্দের দুর্দান্ত রক্ষণভাগ

গ্রুপপর্বেই স্পেনের সঙ্গে ড্র করে নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছিল কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দলটি ছিল দারুণ সংগঠিত। গোলরক্ষক ভোজিনিয়া একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। একই সঙ্গে রক্ষণভাগের সুশৃঙ্খল অবস্থানের কারণে মাঝমাঠ দিয়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।

২. আত্মতুষ্টিতে ভুগেছে আর্জেন্টিনা, মানসিক দৃঢ়তায় এগিয়েছে কেপ ভার্দে

প্রথমার্ধে মেসির ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা যেন কিছুটা ধীরগতির ফুটবল খেলতে শুরু করে। পরবর্তী পর্বের কথা মাথায় রেখে শক্তি সঞ্চয়ের মানসিকতা তাদের খেলায় প্রভাব ফেলেছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণ চালায় কেপ ভার্দে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেয়।

অন্যদিকে, প্রতিটি গোল হজমের পরও কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি। বরং আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান। তাদের এই মানসিক দৃঢ়তাই আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটিকে কঠিন করে তোলে।

৩. রক্ষণে একাধিক ভুল

ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে বেশ কিছু ভুল চোখে পড়ে। কেপ ভার্দের প্রথম গোলটি আসে সুসংগঠিত বিল্ড-আপ থেকে, যেখানে আর্জেন্টিনার ডিফেন্সে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। এছাড়া রক্ষণ থেকে একাধিক ঢিলেঢালা পাস প্রতিপক্ষকে বারবার আক্রমণের সুযোগ করে দেয়।

৪. গরম আবহাওয়া ও শারীরিক ক্লান্তি

যুক্তরাষ্ট্রের গরম আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে পেশিতে টান ধরতে দেখা যায়। আবহাওয়ার প্রভাব দলের সামগ্রিক গতি ও শারীরিক সক্ষমতার ওপরও পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

৫. মাঝমাঠের ছন্দ হারানো

অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফের্নান্দেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ এই তিনজনই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না। বিশেষ করে নিয়মিত একাদশের গুরুত্বপূর্ণ দুই মিডফিল্ডারের অফ-ফর্মের কারণে মাঝমাঠে সৃজনশীলতা কমে যায়। ফলে আক্রমণ তৈরিতে আর্জেন্টিনাকে লং বল ও সেটপিসের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভর করতে হয়েছে।

এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় পেলেও আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স বেশ কিছু দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে। অন্যদিকে কেপ ভার্দে প্রমাণ করেছে, বড় বা ছোট নয় সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াইয়ের মানসিকতা থাকলে যে কোনো প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা সম্ভব। পরবর্তী রাউন্ডে একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে আর্জেন্টিনাকে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

চার বছর পর ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের রিজার্ভ

চার বছর পর ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল দেশের রিজার্ভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরেছে। প্রায় চার বছর পর রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম... বিস্তারিত