ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
‘২২ হাজার মানুষকে চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে’
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে কোরবানির সময় সংগ্রহ করা চামড়ার বড় একটি অংশ এখনো কাঙ্ক্ষিত মান ধরে রাখতে পারছে না বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, দেশে কোরবানির সময় সংগৃহীত মোট চামড়ার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই নিম্নমানের হয়ে থাকে। পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর সময় অসতর্কতা, সঠিক নিয়ম না মানা এবং সংরক্ষণে ঘাটতির কারণেই অনেক ক্ষেত্রে চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদ থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব হয় না।
সোমবার (২৫ মে) কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, এ বছর কতটুকু চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও আগামী বছর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সরকার আশাবাদী। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যেই ২০ থেকে ২২ হাজার মানুষকে চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেছেন, কাঁচা চামড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি পণ্য। সময়মতো এবং সঠিক পরিমাণে লবণ ব্যবহার না করলে খুব দ্রুত চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই ব্যবস্থাপনা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করা গেলে চামড়ার মান যেমন বাড়বে, তেমনি ট্যানারি মালিকরাও ভালো দামে চামড়া কিনতে আগ্রহী হবেন। এতে একদিকে কোরবানির চামড়ার অপচয় কমবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেছেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষির উন্নয়ন ঘটলে মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নও আরও শক্তিশালী হবে। এ কারণে সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
কোরবানিকে সামনে রেখেও সরকারের নানা ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে কৃষকরা নানা ধরনের হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন কৃষকের নামে ঋণ নেওয়া হলেও সেই সুবিধা ভোগ করেছে অন্য কেউ। বর্তমান সরকার সেই অনিয়ম ও বৈষম্যের জায়গা থেকে কৃষকদের বের করে এনে সরাসরি সহায়তার আওতায় আনতে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাতেমা তুজ জোহরা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন, তৌহিদুল আনোয়ার, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম এবং সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হানসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে কৃষক-কৃষাণীদের মাঝে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় ব্যানানা জাতের আমের কলম, ধান কাটার যন্ত্র, ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, এলএলপি এবং হাতে ব্যবহারের স্প্রেয়ার। কৃষির আধুনিকায়ন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকারের এমন উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে কৃষকদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- রামিসা হ'ত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- আজ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- দেশে কমল সোনার দাম, ভরি কত?
- বিনা মূল্যে স্নাতকোত্তর-পিএইচডির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান, আবেদন শুরু
- পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওবিসি সুবিধা বাতিলের ঘোষণা
- আইইএলটিএস ছাড়াই বাংলাদেশিদের পড়ার সুযোগ দিচ্ছে আয়ারল্যান্ড
- সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস ফারুককে
- শিক্ষকদের বদলি নিয়ে সুখবর দিল মাউশি
- নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে এল যে সিদ্ধান্ত
- শিক্ষকদের ঈদ ভাতা নিয়ে যা জানাল মাউশি
- উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে টাকা চেয়ে ভুয়া বার্তা
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ