ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রামিসা হ'ত্যা'কাণ্ডের ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে যা আছে
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। দ্রুততম সময়ে করা ৪৭ পৃষ্ঠার এই তদন্ত প্রতিবেদনে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানার পাশাপাশি অপরাধ লুকাতে ও আলামত নষ্ট করতে সহায়তাকারী হিসেবে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন ইতোমধ্যে এই চার্জশিটটি আমলে নিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্র ও মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ২০ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া এক লোমহর্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিজের অপরাধের কথা অকপটে স্বীকার করে পেশায় অটোরিকশা মেকানিক ও মাদকাসক্ত সোহেল রানা। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাবলেটের অন্য সদস্যরা কাজে চলে যাওয়ার সুযোগে সোহেল পাশের বাসার শিশু রামিসাকে ডেকে তার ঘরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে বাথরুমে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন শুরু করলে রামিসা চিৎকার করে ওঠে। তখন সোহেল তার মুখ চেপে ধরে এবং মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে ধর্ষণ করে। পাশবিকতার একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সে মারা গেছে ভেবে অপরাধের প্রমাণ মেটাতে সোহেল একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা চালায়। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও ভয়ানক তথ্য; চিকিৎসকদের মতে, মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকে রামিসার মৃত্যু হয় এবং তার শরীরের সব ক্ষত ছিল জীবিত থাকাকালীন।
স্বীকারোক্তিতে সোহেল তার পালিয়ে যাওয়ার পেছনে স্ত্রীর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছে। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিখোঁজ রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে তার মা সোহেলের ঘরের দরজার সামনে মেয়ের জুতো জোড়া দেখতে পান। তিনি রামিসাকে ডাকতে থাকলে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা দরজা ধাক্কা দিতে শুরু করে। জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, "বিপদ বুঝে আমার স্ত্রী স্বপ্না আমাকে পালিয়ে যেতে বলে। আমি রেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল ভেঙে ফেলি। উত্তেজিত জনতা যখন দরজায় সমানে ধাক্কা দিচ্ছিল, তখন আমার স্ত্রী ভেতর থেকে দরজা শক্ত করে চেপে ধরে রেখে আমাকে পালাতে সাহায্য করে।" সোহেল জানালার গ্রিল গলে পালিয়ে যাওয়ার পরই স্বপ্না প্রধান দরজা খুলে দেয়।
এর আগে, পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই অভিযোগপত্রটি জমা দেন। পরে শুনানির আনুষ্ঠানিকতা শেষে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এই মামলায় আইনি প্রক্রিয়া সচল রাখতে অভিযুক্তের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহকে রাষ্ট্রনিযুক্ত ডিফেন্স কাউন্সিলর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তার আগে গত রোববার এই মামলায় আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- রামিসা হ'ত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- আজ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক
- দেশে কমল সোনার দাম, ভরি কত?
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- বিনা মূল্যে স্নাতকোত্তর-পিএইচডির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান, আবেদন শুরু
- পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওবিসি সুবিধা বাতিলের ঘোষণা
- আইইএলটিএস ছাড়াই বাংলাদেশিদের পড়ার সুযোগ দিচ্ছে আয়ারল্যান্ড
- সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস ফারুককে
- ঢাবির ১০ শিক্ষার্থী পেলেন ‘অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মনজুর মোরশেদ’ বৃত্তি
- অল্প বয়স থেকেই শারীরিক নির্যাতন, সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়ছেন কেনিশা
- শিক্ষকদের বদলি নিয়ে সুখবর দিল মাউশি
- শিক্ষকদের ঈদ ভাতা নিয়ে যা জানাল মাউশি
- উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে টাকা চেয়ে ভুয়া বার্তা