ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভেজাল ও নকল ওষুধে বাড়ছে মৃ'ত্যুঝুঁকি

২০২৬ জুলাই ১৮ ০৯:৪৫:৫৯

ভেজাল ও নকল ওষুধে বাড়ছে মৃ'ত্যুঝুঁকি

ডুয়া ডেস্ক: ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের ওষুধের কারণে রোগীর মৃত্যু ও চিকিৎসা জটিলতার ঘটনা বাড়লেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি কার্যকরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। ২০২৩ সালের ওষুধ ও কসমেটিকস আইনে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত এ আইনে কাউকে এমন শাস্তি দেওয়া হয়নি।

জীবন রক্ষাকারী ওষুধই অনেক ক্ষেত্রে এখন রোগীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। বাজারে ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের ওষুধের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব রয়ে গেছে।

২০২৩ সালে প্রণীত ওষুধ ও কসমেটিকস আইনে নকল ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হলেও আইন কার্যকরের আড়াই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এমন শাস্তির নজির নেই।

সম্প্রতি পাবনার সুজানগরের কলেজছাত্রী রিপা (২৩)-এর মৃত্যু বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসায় স্কয়ারের নামে বাজারজাত একটি নকল ‘সেফট্রিয়াক্সোন ২ গ্রাম আইভি’ ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়। তদন্তে ওষুধটি নকল বলে প্রমাণিত হলেও সংশ্লিষ্ট ফার্মেসির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের কারণে অনেক রোগীর চিকিৎসা ব্যর্থ হচ্ছে, আবার কেউ কেউ প্রাণও হারাচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘ তদন্ত, দুর্বল আইন প্রয়োগ এবং বিচারিক জটিলতার কারণে মূল অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রেই শাস্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক বেনজির আহমেদের মতে, ভেজাল ওষুধ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় হুমকি। এতে শুধু রোগীর আর্থিক ক্ষতিই নয়, চিকিৎসার কার্যকারিতাও ব্যাহত হচ্ছে। তিনি জানান, বাজারে মূলত তিন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ পাওয়া যায় সম্পূর্ণ নকল, নিম্নমানের এবং ভুল মাত্রার ওষুধ। নকল ওষুধ রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে, আর সঠিক মাত্রা না থাকলে রোগ নিরাময় না হয়ে আরও জটিল আকার ধারণ করে।

দেশে ভেজাল ওষুধজনিত মৃত্যুর ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৯১ সালে ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ সেবনে ৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়, যা দেশের অন্যতম বড় ওষুধ-দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত। ওই ঘটনায় একজন আসামির এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হলেও অন্যরা খালাস পান।

এরপর ২০০৯ সালে বিভিন্ন হাসপাতালে প্যারাসিটামল সিরাপ সেবনের পর অন্তত ২৮ শিশুর মৃত্যু হয়। তবে জব্দ করা ওষুধ নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তৈরি ছিল তা প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।

২০২৩ সালেও একাধিক আলোচিত ঘটনা ঘটে। ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতাল ও মালিবাগের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খতনার সময় অচেতন করার পর দুই শিশুর মৃত্যু হয়। একই বছরে চট্টগ্রামে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় নকল চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগে কয়েকজন প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসে।

দেশে উৎপাদিত ওষুধের প্রায় ৮০ শতাংশ জেনেরিক এবং ২০ শতাংশ পেটেন্টেড। এসব ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজাল বা নকল ওষুধ শনাক্তের দায়িত্ব পালন করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। দেশে বছরে ৩০ হাজারের বেশি ধরনের ওষুধ উৎপাদিত হলেও মোট নমুনার তুলনায় পরীক্ষার সংখ্যা খুবই সীমিত। প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ড্রাগ কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি সর্বশেষ ২ হাজার ৮৮২টি নমুনা পরীক্ষা করে, যার মধ্যে ৮৪টি নমুনায় নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।ভেজাল ও নকল ওষুধের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রয়োগ, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই হতে পারে কার্যকর সমাধান।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার... বিস্তারিত