ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘বাংলাদেশে তরুণ-তরুণীদের অল্প বয়সেই বাধার মুখোমুখি হতে হয়’

২০২৬ জুলাই ১৭ ২১:০৮:৩৪

‘বাংলাদেশে তরুণ-তরুণীদের অল্প বয়সেই বাধার মুখোমুখি হতে হয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই। তবে অল্প বয়সেই তাদের অনেককে বড় বড় বাধার মুখোমুখি হতে হয়। কারও আর্থিক সংকট, কারও পরিবারের দায়িত্ব, আবার ভিন্নভাবে সক্ষম অনেককে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। পাশাপাশি অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দেশের তরুণদের সম্ভাবনা, সংগ্রাম এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন তিনি।

জাইমা রহমান জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে তার। স্কাউটিং, বিজ্ঞানমেলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, পরিবেশ রক্ষা, সংগীত, শিল্পকলা, ভাষা শিক্ষা ও কোডিংসহ নানা ক্ষেত্রে তাদের অসাধারণ অর্জন রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব শিক্ষার্থীর মেধা, জানার আগ্রহ, শৃঙ্খলা এবং দৃঢ় মনোবল সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজেদের পছন্দের বিষয়ে আরও দক্ষ হয়ে ওঠার লক্ষ্যে তারা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, কখনো কখনো মনে হয়, সফল হওয়া ছাড়া তাদের সামনে যেন আর কোনো পথ নেই। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য কিংবা সমাজের জন্য তাদের সফল হতেই হবে। এত অল্প বয়সে এমন দায়িত্ব বহন করা সহজ নয়।

জাইমা রহমান বলেন, এসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তিনি ভাবছিলেন, দেশের শিশুরা কাদের দেখে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে। জীবনের কঠিন সময়ে কে তাদের সাহস জোগায় এবং দেখায় যে জীবনে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব।

তার ভাষ্য, রোল মডেল হতে হলে কাউকে বিখ্যাত কিংবা নিখুঁত হতে হবে না। একজন বাবা বা মা, যিনি কখনো হাল ছাড়েন না; এমন একজন শিক্ষক, যিনি শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা চিনতে পারেন; এমন একজন প্রশিক্ষক, যিনি শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মূল্য শেখান; কিংবা দূর থেকে দেখা এমন কেউ, যাকে দেখে কোনো তরুণ মনে সাহস পাবে এবং ভাববে, “আমিও এটা করতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের তরুণদের সব সময় দেশের বাইরের দিকে তাকাতে হবে না। বাংলাদেশে কাটানো অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এমন অনেক অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, যাদের সাহস, মেধা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা গর্ব করার মতো। তাদের গল্পের সঙ্গে দেশের তরুণ-তরুণীরা সহজেই নিজেদের মিল খুঁজে পেতে পারে। ভবিষ্যতেও এমন আরও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাইমা রহমান বলেন, শুধু অনুপ্রেরণা দিলেই হবে না; এমন সুযোগও তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু তার মেধা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে। শিক্ষা গ্রহণ, খেলাধুলায় এগিয়ে যাওয়া কিংবা নতুন কোনো দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী যেন ভাগ্য, পরিচিত মানুষ বা পরিবারের ত্যাগের ওপর নির্ভরশীল না হয়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখাতে, পরামর্শ দিতে এবং তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সমাজের আরও বেশি মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী কন্যা বলেন, অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, একজন তরুণের জীবনে আমাদের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। বিশ্বস্ত কোনো প্রবীণ মানুষের সামান্য উৎসাহ, সহানুভূতি কিংবা বিশ্বাসও একটি তরুণকে অনুভব করাতে পারে যে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তার স্বপ্নেরও মূল্য রয়েছে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, প্রশ্নটি এই নয় যে বাংলাদেশে যোগ্য ও মেধাবী তরুণ-তরুণী রয়েছে কি না। এর প্রমাণ প্রতিনিয়তই চারপাশে দেখা যায়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো যখন তাদের আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট করছি কি?

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার... বিস্তারিত