ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

জুলাই বিপ্লবকে কলঙ্কিতের চেষ্টা চলছে: সাদিক কায়েম

২০২৬ জুলাই ১৯ ১৩:০১:৩৯

জুলাই বিপ্লবকে কলঙ্কিতের চেষ্টা চলছে: সাদিক কায়েম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর অনেক নেতা বাংলাদেশ থেকে চুরি করা কোটি কোটি ডলার নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। এখন তারা সেই অর্থ ব্যবহার করে বিদেশ থেকে জুলাই বিপ্লবকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন এবং জুলাইয়ের বীরদের ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন।

রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘২য় জুলাই বিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-II ২০২৬)’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থটস (আরআইটি), ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা (কানাডা), নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (সিঙ্গাপুর) এবং ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটি (ওয়াইবিএফ)-এর যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাদিক কায়েম বলেন, যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তারা মনে করছে এতে মানুষ অতীতের সব অন্যায় ভুলে যাবে। কিন্তু গত ১৫ বছরে শত শত মানুষকে হত্যা, গুম, দেশের সম্পদ লুণ্ঠন এবং মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের কথা জনগণ কখনো ভুলবে না।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা জনগণের কণ্ঠরোধ করেছিল এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। গত ১৬ বছর বাংলাদেশ গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা অমানবিক কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হয়েছে। সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকেই জুলাই বিপ্লবের জন্ম।

ডাকসু ভিপির ভাষ্য, জুলাইয়ের আন্দোলন নিপীড়ন, কর্তৃত্ববাদ ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে রূপ নিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সম্পর্কের (অধিকারের) জন্য লড়াই করেছিলাম। আর অবশেষে এ জুলাই মাসে, যখন আমাদের অধিকার আক্রান্ত হলো, বাংলাদেশ আবারও জেগে উঠল। সেই অর্থে, জুলাই বিপ্লব আমাদের দীর্ঘ ও গৌরবময় জাতীয় ঐতিহ্যেরই একটি অংশ।’

তিনি বলেন, এ আন্দোলনে সমাজের সব স্তরের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, রিকশাচালক, ব্যবসায়ী, দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক, শিল্পী, রাজনৈতিক কর্মী এবং সাধারণ মানুষ-সবাই এক লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

সাদিক কায়েম বলেন, মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে বাংলাদেশের মানুষ স্বৈরশাসককে পরাজিত করেছে। জনগণ তাদের অধিকার ও কণ্ঠস্বর ফিরে পেয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। তাই এটি কোনো দল, সংগঠন বা ব্যক্তির বিপ্লব নয়; এটি ছিল জনগণের বিপ্লব এবং সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন।

তিনি বলেন, বিপ্লবের পরই সব সমস্যা রাতারাতি দূর হয়ে যায় না। বাংলাদেশও রাতারাতি ন্যায়বিচারের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়নি। ফলে কিছু হতাশা থাকাটা স্বাভাবিক। তবে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের অনেক উদ্বেগের সঙ্গেই একমত, কিন্তু তা জুলাই বিপ্লবের গৌরবকে ক্ষুণ্ন করে না। জুলাই কেবল ৩৬ দিনের একটি আন্দোলন ছিল না। সেই ৩৬ দিন ছিল একটি দীর্ঘ যাত্রার সূচনা মাত্র। এটি ন্যায়বিচার, সংস্কার এবং একটি জাতি হিসেবে আমাদের ক্ষত নিরাময়ের দীর্ঘ যাত্রা। তাই আমাদের আশাহত হওয়া চলবে না।’

একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন-এমন সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাই সবার। এটি জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। এখন একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সময় নয়; বরং অর্জিত সাফল্য রক্ষা করে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সময়।

ডাকসু ভিপি আরও বলেন, পতিত স্বৈরাচার এবং তার দোসররা আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। তবে জনগণ সাহস, ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে যা অর্জন করেছে, তা তাদের হাতে কখনোই তুলে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা আজও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে, গণতন্ত্র রক্ষা করতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং বাংলাদেশকে যেন আর কখনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধীনে না যেতে হয়, সেই আহ্বান জানায়।

বক্তব্যের শেষাংশে সাদিক কায়েম জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে শুধু কথায় নয়, কাজে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যার জন্য দেশের মানুষ এত ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার... বিস্তারিত