ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ সম্প্রচার ব্যয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তথ্যমন্ত্রীর

২০২৬ জুলাই ১৯ ১২:৪৬:০৭

বিশ্বকাপ সম্প্রচার ব্যয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তথ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ সম্প্রচারে সরকারের ব্যয়ের সঙ্গে ২০২২ সালের বিশ্বকাপের ব্যয়ের তুলনা করে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, ২০২২ সালে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব কিনতে সরকারের ৯৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। এবার ফিফার কাছ থেকে সরাসরি সম্প্রচার স্বত্ব কিনে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় পুরো অর্থই আদায় করা সম্ভব হয়েছে। ফলে সরকারের প্রকৃত ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা।

রোববার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

তিনি জানান, ফিফার কাছ থেকে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব কেনার পর বাংলাদেশে তা সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় পুরো খরচই উঠে এসেছে। ফলে নামমাত্র ব্যয়ে দেশের দর্শকদের বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে মিডিয়া রাইট নিয়েছিলাম। পরে বাংলাদেশের চারটি মাধ্যমে সাব-লাইসেন্সিং করেছি। সেখান থেকে প্রায় বেশির ভাগ টাকাই আমরা তুলে নিয়েছি। সরকারের ট্যাক্সও সরকার নিজেই গ্রহণ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নগদ অর্থ সংগ্রহের পর আমাদের চার-পাঁচ কোটি টাকার মতো ঘাটতি থাকে। এইটুকুই সরকারের ব্যয়। আমরা যদি আরও আগে প্রক্রিয়া শুরু করতে পারতাম এবং আরও কিছু দর-কষাকষি করতে পারতাম, তাহলে হয়তো এই ব্যয়ও শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা সম্ভব হয়নি।’

২০২২ সালের বিশ্বকাপের সম্প্রচার ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সে সময় ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা হয়েছিল। তবে সেটি সরাসরি বাংলাদেশে আসেনি। ফিফার কাছ থেকে প্রথমে শ্রীলঙ্কা-সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানি স্বত্ব কিনে নেয়। পরে বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন ওই কোম্পানির কাছ থেকে স্বত্ব সংগ্রহ করে।

তার ভাষ্য, বাংলাদেশ সরকার তমা কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে ৯৮ কোটি টাকায় বিটিভির জন্য সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল। এরপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টি স্পোর্টসের কাছে স্যাটেলাইট মিডিয়া রাইট ২২ কোটি টাকা এবং টফির কাছে ডিজিটাল মিডিয়া রাইট ১৭ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। তিনি বলেন, হিসাব কিছুটা কমবেশি হতে পারে, তবে সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।

মন্ত্রী দাবি করেন, তমা কনস্ট্রাকশন সিঙ্গাপুরের ওই কোম্পানিকে ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করলেও বাকি অর্থের বড় অংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে গেছে।

তিনি বলেন, ‘২০২২ সালের বিশ্বকাপের সঙ্গে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের ব্যয় তুলনা করলেই বোঝা যাবে, শেখ হাসিনার আমলে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, টাকা লোপাট হয়েছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যবহার করা হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই সরকারের আমলে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশ ছিল-খেলা দেখাতে হবে, কিন্তু দেশের করুণ অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে কোনো টাকা খরচ করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ফিফার সঙ্গে লাগাতার দর-কষাকষি করেছি।’

তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা, ফিফা, স্পোর্টস রিপোর্টারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিটিভি সরাসরি ফিফার কাছ থেকে ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছে।

জহির উদ্দিন স্বপনের ভাষ্য, ‘গতবার দুজন মধ্যস্বত্বভোগী ছিল-একজন সিঙ্গাপুরে, আরেকজন তমা কনস্ট্রাকশন। এরপর জনগণের ট্যাক্সের ৯৮ কোটি টাকা সেই মধ্যস্বত্বভোগীকে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ২২ কোটি ও ১৭ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার সরকারের ব্যয় নেমে এসেছে মাত্র চার থেকে পাঁচ কোটি টাকায়।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক বাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার স্বর্ণের দাম কমেছে। তেলের দাম বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার... বিস্তারিত