ঢাকা, সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
সরকারি সিকিউরিটিজে কর-জটিলতা; বিনিয়োগকারীদের পকেটে টান
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের মাধ্যমে সরকারি সিকিউরিটিজে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কর সংক্রান্ত এক জটিলতা। স্টক ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের পরিচালিত ‘অমনিবাস বিও হিসাব’কে কোম্পানি করদাতা হিসেবে বিবেচনা করায় ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হচ্ছে। এই অযৌক্তিক করের বোঝা কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হস্তক্ষেপ চেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সম্প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এনবিআর চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও নীতিগত সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, অমনিবাস বিও হিসাবগুলো মূলত একটি মধ্যবর্তী প্ল্যাটফর্ম। নিলামে কেনা সরকারি সিকিউরিটিজগুলো সাময়িকভাবে এখানে রাখা হয় এবং পরে তা বিনিয়োগকারীদের ব্যক্তিগত বিও হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। অর্থাৎ, এই হিসাবের প্রকৃত মালিক ব্রোকার বা মার্চেন্ট ব্যাংক নয়, বরং সাধারণ ব্যক্তি বিনিয়োগকারী।
বর্তমানে আয়কর আইন অনুযায়ী, সরকারি সিকিউরিটিজের সুদের ওপর কোম্পানি করদাতার জন্য ১৫ শতাংশ এবং ব্যক্তি বা অন্যান্য করদাতার জন্য ১০ শতাংশ উৎসে কর নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু অমনিবাস হিসাবকে ‘কোম্পানি’ হিসেবে ধরায় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও বাড়তি ৫ শতাংশ কর কেটে নেওয়া হচ্ছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ জানান, সরকারের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষকে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে সম্পৃক্ত করা। ২০২২ সালে অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই সুযোগ তৈরি করা হয়। কিন্তু বর্তমান পদ্ধতিতে কর কাটার ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সরকারের এই বিশেষ বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মটি মুখ থুবড়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত কর কাটার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে মুদ্রা বাজার ও শেয়ারবাজারের মধ্যে যে সংযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে, তা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে।
বিএসইসি এনবিআরকে অনুরোধ করেছে যেন অমনিবাস বিও হিসাবগুলোকে ‘কোম্পানি করদাতা’র পরিবর্তে ‘ব্যক্তি বা অন্যান্য করদাতা’ হিসেবে গণ্য করে কর আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষ-জেনে নিন ফলাফল
- গান-কবিতায় প্রাণবন্ত ডুপডা’র বৈশাখ উৎসব
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- শিক্ষাবৃত্তি দেবে ইবনে সিনা ট্রাস্ট, আবেদন শুরু
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- ১২৩তম প্রাইজবন্ড ড্র: দেখে নিন কোন নম্বরগুলো জিতল
- বিকালে আসছে ৫৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- মিমোর মৃ'ত্যু ঘিরে সর্বশেষ যা জানা গেল
- নতুন ট্রেন্ড: ক্রেয়ন স্টাইলে প্রোফাইল ছবি বানাবেন যেভাবে
- ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামলো আরও ১০ ব্যাংক
- জাপানের মেক্সট স্কলারশিপে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আবেদন শুরু
- আর্থিক প্রতিবেদনে নয়ছয়: ৩ অডিট ফার্ম ও ৪ অডিটর নিষিদ্ধ