ঢাকা, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২

অননুমোদিত লেনদেনে এনবিএল সিকিউরিটিজের জরিমানা

২০২৬ এপ্রিল ১২ ০০:০৯:৪৯

অননুমোদিত লেনদেনে এনবিএল সিকিউরিটিজের জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং গ্রাহক স্বার্থবিরোধী অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ব্রোকারেজ হাউজ এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মোট ২১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শেয়ারবাজার-এর শৃঙ্খলা রক্ষায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক কমিশন সভায় এই দণ্ডাদেশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডিএসই ও সিএসই সদস্যভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূলত গ্রাহকের লেনদেনের আদেশ যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা, অনুমতি ছাড়াই শেয়ার কেনাবেচা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে অবহেলার মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। পেশাগত অসদাচরণের এই অভিযোগগুলো দীর্ঘ তদন্তের পর প্রমাণিত হয়েছে।

বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ আবু সালেহ নামক একজন বিনিয়োগকারীর দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই অনুসন্ধান চালানো হয়। তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের সম্মতি তোয়াক্কা না করেই লেনদেন সম্পাদন করেছে এবং অভিযোগ পাওয়ার পরও তা সমাধানে গড়িমসি করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের অধিকার রক্ষায় এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডকে সরাসরি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস লঙ্ঘনের দায়ে ৮ লাখ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ও পেশাগত অসদাচরণের জন্য পৃথকভাবে আরও ২ লাখ টাকা দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই অনিয়মের সময়কালে দায়িত্ব পালনকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়েদ আল মামুন হাসানকেও ছাড় দেয়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অননুমোদিত লেনদেন ও বিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শাস্তির আওতায় এসেছেন প্রতিষ্ঠানের আরও দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। সে সময়ের ব্যবস্থাপক আহমেদ ইফতেখার শহীদ এবং প্রধান অ্যান্টি-মানিলন্ডারিং কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ফারজানা ফেরদৌসীকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধেও সমজাতীয় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

বিএসইসি কড়া ভাষায় জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়া শেয়ার লেনদেন করা একটি জঘন্য অপরাধ, যা বাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে। পেশাগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং নির্ধারিত সময়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে না পারাকে কমিশন বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনকে এই জরিমানার অর্থ আদায়সহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বাজারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর এমন স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারানোর শঙ্কায় থাকবেন। এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ফলে চলতি অর্থবছর-এর শেষ দিকে এসে বাজারে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে।

কমিশনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কাজে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। বাজারে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে স্বচ্ছতা ও সঠিক সুশাসন নিশ্চিত করতে কমিশন বর্তমানে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত