ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রেশমি চুলের জন্য দাদি-নানির ৬ ঘরোয়া উপায়
পার্থ হক
রিপোর্টার
পার্থ হক: আজকের ব্যস্ত ও দূষণময় জীবনে ধুলোবালি, অযত্ন এবং রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে চুলের স্বাভাবিক কোমলতা ও উজ্জ্বলতা নষ্ট হওয়া অনেকেরই সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। স্যালনের কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট সাময়িকভাবে ভালো ফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদে চুলের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। এ অবস্থায় ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে চুলের যত্ন নেওয়াই হতে পারে নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান। নিচে এমন কয়েকটি সহজ উপায় তুলে ধরা হলো।
১. নারিকেল তেলের ময়েশ্চারাইজিং গুণ
শুষ্ক চুলের জন্য সবচেয়ে আদি এবং অকৃত্রিম সমাধান হলো নারিকেল তেল। চুলের গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছে দিতে কুসুম গরম নারিকেল তেল চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত হালকা হাতে মালিশ করুন। শ্যাম্পু করার অন্তত এক ঘণ্টা আগে এটি ব্যবহার করা প্রয়োজন; তবে সবচেয়ে ভালো ফল পেতে সারারাত তেল লাগিয়ে রাখতে পারেন। এটি চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে মাথার ত্বক সুরক্ষিত রাখে।
২. দই ও মধুর জাদুকরী প্যাক
চুলকে প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্র ও নরম রাখতে দই এবং মধুর মিশ্রণ অনন্য। দইয়ের প্রোটিন চুলের গঠন মজবুত করে এবং মধুর প্রাকৃতিক গুণাগুণ বাতাস থেকে আর্দ্রতা টেনে নিয়ে চুলে জমা রাখে। আধা কাপ দইয়ের সঙ্গে দুই চামচ মধু মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। ৩০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেললে রুক্ষতা কমে আসবে এবং মাথার ত্বকের চুলকানি দূর হবে।
৩. অ্যালোভেরা ও নারিকেল তেলের হাইড্রেটিং থেরাপি
চুলের শুষ্কতা কাটাতে অ্যালোভেরা একটি শক্তিশালী উপাদান। যখন এর সঙ্গে নারিকেল তেল মেশানো হয়, তখন এটি একটি চমৎকার কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। সিল্কি ও উজ্জ্বল চুলের জন্য এই মিশ্রণটি ২০ থেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই ঘরোয়া মাস্কটি মাথার ত্বকের অস্বস্তি কমায় এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৪. কলা ও অলিভ অয়েলের কন্ডিশনিং
ক্ষতিগ্রস্ত চুলের টিস্যু মেরামত করতে কলার বিকল্প নেই। কলায় থাকা পটাশিয়াম আর প্রাকৃতিক তেল চুলের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে। একটি পাকা কলার পেস্টের সঙ্গে এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে পুরো চুলে ২০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। এটি চুলের ভঙ্গুরতা কমিয়ে চুলে এনে দেয় বাড়তি স্থিতিস্থাপকতা ও পেলবতা।
৫. মেথির প্রোটিন ট্রিটমেন্ট
চুলের ঘনত্ব বাড়াতে এবং খুশকি মুক্ত রাখতে মেথির ব্যবহার বেশ প্রাচীন। এতে থাকা লেসিথিন ও প্রোটিন চুলের অভ্যন্তরীণ গঠন উন্নত করে। মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে তৈরি করা পেস্ট চুলে ৪০ মিনিট মেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের পাতলা ভাব দূর হবে এবং চুল হবে আরও ঘন ও প্রাণবন্ত।
৬. ডিম ও অলিভ অয়েলের প্রোটিন থেরাপি
যাদের চুলের গোড়া দুর্বল এবং সহজেই ভেঙে যায়, তাদের জন্য ডিম ও অলিভ অয়েলের মাস্কটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। ডিমের উচ্চমাত্রার প্রোটিন চুলকে পুনর্গঠন করে। একটি ডিম ফেটিয়ে তাতে অলিভ অয়েল মিশিয়ে ২০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রাখুন। ধোয়ার সময় অবশ্যই ঠান্ডা পানি ও হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।
নিয়মিত এসব প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ করলে চুল ধীরে ধীরে হয়ে উঠবে আরও মজবুত, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত, এবং রাসায়নিক নির্ভরতা ছাড়াই চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ সেপ্টেম্বর)
- মেসির দুই সহায়তাতেও আটলান্টার সঙ্গে ড্র ইন্টার মিয়ামির
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- বক্তৃতায় দায় সারছে কমিশন, ধসের মুখে পড়েছে বাজার
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- ছাদখোলা গাড়িতে লংমার্চে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গাড়িটি কার?
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ