ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

বাতিলের পথে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ ১৬ অধ্যাদেশ

২০২৬ এপ্রিল ০২ ২০:৩২:১৩

বাতিলের পথে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ ১৬ অধ্যাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ সময়মতো সংসদে উপস্থাপন না হওয়ায় সেগুলো কার্যকারিতা হারানোর মুখে পড়েছে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলে এসব অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ল্যাপস’ হয়ে যাবে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকেই তা উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে তা বাতিল হয়ে যায়। এ হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ১৬টি অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

তবে জাতীয় সংসদের গঠিত বিশেষ কমিটি এসব অধ্যাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে বিল আকারে উত্থাপন না করার পক্ষে মত দিয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এগুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা ও সংশোধনের পর ভবিষ্যতে নতুন করে উপস্থাপন করা হতে পারে।

বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি বর্তমান অবস্থাতেই পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি সংশোধন করে পাস এবং ৪টি বাতিল বা সংরক্ষণের জন্য বিল আকারে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৬টি অধ্যাদেশ নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত না নিয়ে আরও সময় নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে গণভোট, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, তথ্য অধিকার সংশোধনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য—অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম—১২টি অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছেন।

বিশেষ করে স্থানীয় সরকার সংশোধন সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে তারা বলেন, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ ও সুপ্রিম কোর্টের ‘কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ’ মামলার রায় অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ অসাংবিধানিক।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তী তিনটি বৈঠকে তারা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ওপর বিস্তারিত পর্যালোচনা সম্পন্ন করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত