ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২

‘বিগত শাসনামলে রাজাকাররাই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হতো’

২০২৬ মার্চ ৩১ ১৬:১৪:৪৮

‘বিগত শাসনামলে রাজাকাররাই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হতো’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তালিকায় যে নজিরবিহীন রদবদল ঘটেছে, তাকে রূপকথার ‘হীরক রাজার যন্তরমন্তর’ ঘরের সঙ্গে তুলনা করেছেন সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন। তার মতে, গত ১৭ বছরে ক্ষমতার যাঁতাকলে পড়ে অনেক অমুক্তিযোদ্ধা রাতারাতি মুক্তিযোদ্ধার সনদ পেয়েছেন, আবার রাজনৈতিকভাবে আপস না করায় অনেক প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকারের তকমা নিয়ে ফিরতে হয়েছে।

সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন বলেন, বিগত ১৭ বছরে গুম-খুন আর আয়নাঘরের পাশাপাশি হীরক রাজার দেশের যন্তরমন্তর ঘরের মতো একটি ব্যবস্থা সচল ছিল। সেখানে যেমন কৃষকদের ঢুকিয়ে মগজ ধোলাই করে বের করা হত, তেমনি তার নিজের এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যাদের কেউ মুক্তিযোদ্ধা বা রাজাকার হিসেবে চিনত না, তাদের জোর করে রাজাকার বানানোর চেষ্টা হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চিহ্নিত রাজাকাররা গ্রেপ্তার হওয়ার কিছুদিন পর এক অজানা রহস্যময় প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জেল থেকে বের হয়ে এসেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে এক ধরনের সমঝোতার মেশিনের মাধ্যমে এই অদলবদল ঘটেছে। যারা আপস করেছেন তারা মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন, আর যারা মাথা নত করেননি তাদের ওপর রাজাকারের অপবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ১৭ বছরে সৃষ্ট এমন সব বিতর্কিত তালিকা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, মিথ্যা তথ্যে নেওয়া এসব সুযোগ-সুবিধা উদ্ধারে এবং কলঙ্কিত তালিকা সংশোধনে সরকার ইতিমধ্যেই বড় পরিসরে কাজ শুরু করেছে। মন্ত্রী বলেন, অমুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও যারা বিভিন্নভাবে তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এবং তাদের সন্তানরা যে অবৈধ সুবিধা বা চাকরি গ্রহণ করেছেন, সেগুলোর ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। যাচাই-বাছাই শেষ করে খুব দ্রুতই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান জাতির সামনে তুলে ধরা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত