ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
ঈদের আনন্দে শিশু মেলায় উপচে পড়া ভিড়
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের ছুটিতে রাজধানীর শ্যামলীর শিশু মেলা পরিণত হয়েছে শিশুদের আনন্দ-উৎসবে। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন নগরবাসী, আর নতুন পোশাকে সেজে শিশুদের হাসি-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
মেলায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে রঙিন সাজসজ্জা, ব্যানার, বেলুন আর শিশুদের জন্য তৈরি বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড। নাগরদোলা, মিনি ট্রেন, ঘোড়ার গাড়ি, বাম্পার কার, বাউন্সি ক্যাসল সবকিছুতেই শিশুদের ভিড়। প্রতিটি রাইডের সামনে লম্বা সারি, তবে অপেক্ষা যেন আনন্দেরই অংশ হয়ে উঠেছে তাদের কাছে। এক রাইড থেকে নেমেই আরেক রাইডে ওঠার জন্য শিশুদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।
মেলায় ঘুরতে আসা অভিভাবকরা জানান, ঈদের দিনে সন্তানদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতেই হয়। বিশেষ করে এমন একটি জায়গা, যেখানে নিরাপদ পরিবেশে শিশুরা খেলতে পারে, সেটি তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েম বলে, ‘আমি আজ নাগরদোলা আর বাম্পার কারে উঠেছি। খুব মজা লাগছে। আমি বিকেল পর্যন্ত এখানে থাকব।’
সায়েমের মা রোকসানা বেগম বলেন, ‘শিশুরা সারা বছরই পড়াশোনা আর বাসার মধ্যে থাকে। ঈদের সময় তাদের একটু আনন্দ দিতে এখানে নিয়ে আসি। ওদের খুশিই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়।’
ছোট্ট মেয়ে তানহা তার বাবার হাত ধরে ট্রেন রাইডের লাইনে দাঁড়িয়ে। বলছিল, ‘আমি ট্রেনে উঠব, তারপর ঘোড়ার গাড়িতেও উঠব।’ তার বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় শিশুদের জন্য খোলা বিনোদনের জায়গা খুব সীমিত। তাই এমন আয়োজনগুলো আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান। এখানে এসে অন্তত কিছুটা সময় নির্ভারভাবে কাটানো যায়।’
শিশু মেলার বাইরে খাবারের দোকানগুলোতে ভিড় দেখা যায়। ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিম, কটন ক্যান্ডি শিশুদের পছন্দের নানা খাবার কিনে দিচ্ছেন অভিভাবকরা। অনেক শিশুকে দেখা যায় হাতে বেলুন, খেলনা বা রঙিন সামগ্রী নিয়ে আনন্দে মেতে থাকতে।
মেলায় দায়িত্ব পালনরত এক কর্মী বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীর চাপ অন্যান্য দিনের তুলনায় খুবই বেশি। সকাল থেকেই অনেক মানুষ আসছেন। বিকেলের দিকে ভিড় আরও বাড়ে। আমরা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়োজিত আছি।’
এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রবেশপথে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। শিশুদের হারিয়ে যাওয়া ঠেকাতে মাইকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পরিবারগুলো যেন স্বস্তিতে সময় কাটাতে পারে, সে দিকটিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
দিনভর হাসি, দৌড়ঝাঁপ আর উচ্ছ্বাসে মুখর থাকে মেলা প্রাঙ্গণ। কেউ নাগরদোলার চূড়ায় উঠে শহর দেখছে, কেউ আবার বাউন্সি ক্যাসলে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে চারপাশে।
ঈদের এই আনন্দঘন আয়োজনে শিশু মেলা হয়ে উঠেছে পরিবারের মিলনস্থল, যেখানে ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি ভুলে সবাই কিছুটা সময় কাটাচ্ছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে। শিশুদের মুখে হাসি আর আনন্দের এই রঙিন মুহূর্তই যেন ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরছে।
ইউএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আকিজ গ্রুপে চাকরি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের
- ঢাবির শহীদুল্লাহ্ হলের শিক্ষার্থী মুরাদের আকস্মিক মৃ/ত্যু
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ সেপ্টেম্বর)
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৬ সেপ্টেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সালমান মুক্তাদিরের
- তিন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত