ঢাকা, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২

নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: তদন্ত কমিটি গঠন, উদ্ধার কাজ চলছে

২০২৬ মার্চ ১৮ ২০:৪৮:৫৯

নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: তদন্ত কমিটি গঠন, উদ্ধার কাজ চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীতে ঠাসা ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশন সংলগ্ন বাগবাড়ী এলাকায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকার রেল যোগাযোগ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এই ঘটনায় ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ৭৬৫) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সান্তাহার জংশন ছেড়ে যায়। এর মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তরে বাগবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ১৪টি বগির মধ্যে ৯টি বগি হুড়মুড় করে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। লাইনচ্যুত হওয়া বগিগুলোর মধ্যে রয়েছে— এসি চেয়ার (৭২৩৫), পাওয়ার কার (৭৫১৩) এবং সাতটি শোভন চেয়ার বগি (৭২৫০, ৭২২৭, ৭৯০৫, ৭৯২৭ ও ৭৯২৮)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই এলাকায় গত ১৫-২০ দিন ধরে লাইন সংস্কারের কাজ চলছিল। ট্রেনটি আসার সময় লাইনের পাত ও স্লিপার সরানো অবস্থায় ছিল এবং সিগন্যাল হিসেবে লাল পতাকা বা ব্যানার টাঙানো ছিল। কিন্তু চালক সিগন্যাল ও গতিসীমা উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে ট্রেন চালালে ইঞ্জিন পার হওয়ার পরেই বগিগুলো লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এতে প্রায় ৫৮০ ফুট রেললাইন ও স্লিপার দুমড়ে-মুচড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

দুর্ঘটনার পর বগিগুলো একদিকে হেলে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদে থাকা বিপুল সংখ্যক যাত্রী প্রাণভয়ে নিচে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ও স্থানীয় জনতা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ৫০-৬০ জনকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ উদ্যোগে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কর্তব্যে অবহেলার দায়ে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহীদুল ইসলাম রঞ্জুকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাকশী রেলওয়ে বিভাগ চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মইনউদ্দিন সরকারকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— মেকানিক্যাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার, সিগন্যাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং ট্রান্সপোর্টেশন চিফ। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম জানান, কোনো তথ্যগত গ্যাপ বা গাফিলতি ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

দুর্ঘটনার প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ঈশ্বরদী থেকে একটি উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। সৈয়দপুর থেকে আরেকটি রিলিফ ট্রেন আসার কথা রয়েছে। তবে রেললাইন ও চাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লাইন মেরামত করে স্বাভাবিক যোগাযোগ ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকাগামী ট্রেনগুলোর শিডিউল মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। হাজার হাজার ঘরমুখো যাত্রী মাঝপথে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ